৩১ মার্চ দিনটা ট্রান্সজেন্ডার দৃশ্যমানতা দিবস হিসাবে সারা পৃথিবীতে পালন করা হয়। ওই দিন কলকাতার রাণুছায়া মঞ্চে ভারতের সংসদে সদ্য পাশ হওয়া ট্রান্সজেন্ডার পার্সনস (প্রোটেকশন অফ রাইটস) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬-এর কপি পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানান রূপান্তরকামী মানুষ ও তাঁদের বন্ধুরা। ভারতবর্ষের বিভিন্ন জায়গায় এরকম প্রতিবাদ ঘটেছে। রাণুছায়া মঞ্চে টানা ১৫ দিন ধরে বিভিন্নভাবে প্রতিবাদ করা হয়েছে। যদিও সব প্রতিবাদ সত্ত্বেও রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সংসদে পাশ হওয়া ওই বিলে স্বাক্ষর করে দিয়েছেন, ফলে ওটা আইনে পরিণত হয়েছে। যা-ই হোক, অমনই এক সভা থেকে ফেরার সময়ে ট্যাক্সিচালক আমার কাছে জানতে চান ‘আপনি ওই মিটিংয়ে ছিলেন, ওখানে কী নিয়ে কথা হচ্ছিল ঠিক বুঝতে পারছি না। একটু বুঝিয়ে বলবেন?’
আমরা যারা জেন্ডার নিয়ে কাজ করি, আমরা তো চাই বহু বহু মানুষকে বুঝিয়ে বলতে; কিন্তু আমাদের সমাজ ঠিক করে দিয়েছে যে লিঙ্গ, যৌনতা ইত্যাদি নিয়ে খোলাখুলি কথা বলা যাবে না, ঢাকঢাক গুড়গুড় করতে হবে। কাজেই মধ্যবিত্ত বাঙালি নারী হওয়ার সুবাদে খানিকটা থমকে গেলাম। কীভাবে অচেনা পুরুষকে রূপান্তরকামী মানুষের উপর ভারত সরকার যে অন্যায় আইন চাপাতে চলেছে তা বোঝাব, সেকথা ভাবতে কয়েক মিনিট সময় নিলাম। তারপর নিজের ভাষা সম্পর্কে খানিকটা সচেতন হয়ে বললাম ‘আসলে নারী এবং পুরুষ ছাড়া পৃথিবীতে আরও নানা ধরনের মানুষ আছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে মোদী সরকার একটা আইন আনছে। তাতে এঁদের নানা অসুবিধা হতে পারে।’
নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান
প্রিয় পাঠক,
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।
ট্যাক্সিচালক খেটে খাওয়া মানুষ। তিনি সঙ্গে সঙ্গে বললেন ‘এটা তো খুব অন্যায়। এদের যাতে খাওয়া পরার কোনো অসুবিধা না হয়, চাকরিবাকরি পায়, সেটা দেখার দায়িত্ব তো সরকারের।’ সঙ্গে যোগ করলেন ‘আমাদের গ্রামেও তো এরকম মানুষ আছে। এরকম অনেককে তো ছোট থেকেই দেখে এসেছি।’ বিদগ্ধজনদের আলোচনা সভায় লিঙ্গ রাজনীতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নানা অসুবিধার সম্মুখীন হই। ওই আধ ঘন্টার ট্যাক্সি সফরে কিন্তু বুঝলাম— খেটে খাওয়া লোকজনের এই স্বাভাবিক কথাগুলো বুঝতে খুব একটা অসুবিধা হয় না।
নরেন্দ্র মোদী সরকারের আনা এই নতুন আইন কী এবং কেন তা একটু বোঝার চেষ্টা করি, ট্রান্সজেন্ডার পার্সনস (প্রোটেকশন অফ রাইটস) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬ প্রত্যাখ্যান করুন – কোয়ালিশন, পশ্চিমবঙ্গ, দ্বারা প্রকাশিত লিফলেট অনুসারে।
২০২৬ সালের ৩০ মার্চ ভারতের রাষ্ট্রপতি এই বিলে সই করেছেন। রূপান্তরকামী দৃশ্যমানতা দিবসের ঠিক আগের দিনই আইন করে রূপান্তরকামীদের পরিচয় মুছে ফেলার ব্যবস্থা করা হয়েছে। গত ১৩ মার্চ লোকসভায় ওই বিল পেশ করার পর সংসদের দুই কক্ষেই এ বিল পাশ হয়েছে। এর বিরুদ্ধে দেশজুড়ে বিশাল প্রতিবাদ, অনলাইন ক্যাম্পেন এবং জনশুনানি হওয়া সত্ত্বেও ওই বিল এখন আইন। এতে ২০১৯ সালের আইনে রূপান্তরকামীদের যেটুকু অধিকার দেওয়া হয়েছিল, তা-ও কেড়ে নেওয়া হয়েছে। রূপান্তরকামীর সংজ্ঞা অত্যন্ত অবৈজ্ঞানিক আর খামখেয়ালি উপায়ে বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
আগেকার সংজ্ঞা ছিল অনেক বেশি খোলামেলা, অনেক বেশি মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য তৈরি। ‘একজন ব্যক্তি যার লিঙ্গপরিচয় জন্মের সময় নির্ধারিত লিঙ্গের সাথে মেলে না’। এখন তার বদলে মাত্র তিনটি ভাগ রাখা হয়েছে:
- নির্দিষ্ট সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিচয় (যেমন হিজড়া, কিন্নর, আরাভানি, জোগতা ও নপুংসক)।
- নির্দিষ্ট ৫টি ইন্টারসেক্স ভ্যারিয়েশন আছে এমন ব্যক্তি।
- যাদের রূপান্তরকামী হিসেবে পরিচয় দিতে ‘বাধ্য’ করা হয়েছে।
এর মানে হল, যাঁরা এই নির্দিষ্ট সামাজিক-সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর বাইরে, যেমন ট্রান্স-ম্যাসকুলিন বা নন-বাইনারি ব্যক্তি, তাঁদের এই সংজ্ঞা থেকে পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়েছে। এমনকি কতি, নুপি মানবি বা থিরুনাঙ্গাইদের মত সামাজিক পরিচয়গুলো আদৌ স্বীকৃতি পাবে কিনা, তাও স্পষ্ট নয়।
২০১৪ সালে ঐতিহাসিক নালসা (NALSA) বনাম ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া মামলায় ভারতের সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভাবে বলেছিল, প্রত্যেক নাগরিকের নিজের লিঙ্গপরিচয় নিজে নির্ধারণ করার অধিকার আছে। এর জন্য কোনো অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন নেই। সংবিধানের ১৪, ১৯ এবং ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই অধিকার স্বীকৃত।
কিন্তু এবারের সংশোধনী সেই অধিকারকে সরাসরি লঙ্ঘন করছে। এই আইন অনুযায়ী একটা মেডিকাল বোর্ড তৈরি করা হবে, যারা রূপান্তরকামী ব্যক্তিদের ‘স্ক্রিনিং’ বা পরীক্ষা করবে। এটা মানুষের গোপনীয়তার অধিকার এবং নিজের শরীরের উপর নিজের অধিকারের পরিপন্থী। ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেটকে সার্টিফিকেট দেওয়ার আগে ওই বোর্ডের সুপারিশ নিতে হবে। এছাড়া যেসব হাসপাতাল লিঙ্গ পরিবর্তনের অস্ত্রোপচার করে থাকে, তাদেরও সরকারকে সব খবর জানাতে হবে। এর ফলে লিঙ্গপরিচয় এখন রাষ্ট্রের নজরদারির বিষয় হয়ে দাঁড়াল।
এই সংশোধনীর ১৮ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, কাউকে অপহরণ করা বা হরমোন প্রয়োগ/অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে গুরুতর আঘাত দেওয়ার শাস্তি হবে দশ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। কাউকে জোর করে রূপান্তরকামী সাজিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি বা শ্রমদানে বাধ্য করলে ৫-১০ বছরের সাজা হবে। আর ভুক্তভোগী যদি শিশু হয়, তবে শাস্তি আরও কঠোর। সংশোধনীর ধারা ১৮(ডি) অদ্ভুতভাবে যৌন নির্যাতনকে অর্থনৈতিক ও মৌখিক নির্যাতনের পাশে বসিয়েছে, যার সর্বোচ্চ শাস্তি মাত্র দুবছর। অথচ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) অধীনে সিস মহিলাদের যৌন নির্যাতন করলে তার শাস্তি দশ বছরের কারাদণ্ড। শাস্তিমূলক পদক্ষেপের এই শ্রেণিবিন্যাস চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে ভারত রাষ্ট্র রূপান্তরকামী মানুষ ও তাদের যত্ন এবং সহায়তার নেটওয়ার্কগুলোকে নির্মূল করতে চায়।
ইন্টারসেক্স আর রূপান্তরকামীদের গুলিয়ে ফেলা যেমন অবৈজ্ঞানিক, এই ধারাগুলোও তেমন ভিত্তিহীন। এটা সমাজের সেই পুরনো ভুল ধারণাকেই উস্কে দেয় যে কিছু নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠী হল ছেলেধরা। এর ফলে যাঁরা রূপান্তরকামী মানুষদের আশ্রয় বা সাহায্য দেন, সেই সব সমাজকর্মী, চিকিৎসক, মানসিক স্বাস্থ্য আধিকারিক বা সংগঠনগুলোও বিপদে পড়তে পারে। এই আইন আমাদের আবার সেই ব্রিটিশ আমলের ১৮৭১ সালের ক্রিমিনাল ট্রাইবস অ্যাক্ট-এর দিনগুলোতে ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তখন বলা হত, জায়গায় জায়গায় রূপান্তরকামী মানুষের তালিকা রাখা প্রয়োজন, যাতে তাঁরা সমাজের ক্ষতি না করতে পারেন। আজ স্বাধীন ভারত সেই পথেই হাঁটছে।
হঠাৎ করে এই আইন পাশ হয়ে যাওয়ায় চিন্তায় পড়েছেন বহু মানুষ। আগের আইনে নানা ভুলভ্রান্তি থাকা সত্ত্বেও বেশকিছু মানুষ সেই আইন অনুযায়ী নতুন আইডেন্টিটি কার্ড বানিয়েছিলেন। এমন মানুষ আছেন, যার ভোটার কার্ডে হয়ত ট্রান্সজেন্ডার লিঙ্গ পরিচিতি নথিভুক্ত হয়েছে, কিন্তু আধার কার্ডে হয়নি। তাঁরা এখন ভাবছেন— এই অসঙ্গতি কি বিপদে ফেলতে পারে? আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠরত এক ছাত্রের আশঙ্কা— ভর্তির সময়ে ট্রান্সজেন্ডার পরিচিতি নিয়ে ভর্তি হয়েছেন। নতুন আইনে সেই পরিচয় বাতিল হলে পড়াশোনাই বন্ধ হয়ে যাবে না তো? মালদা থেকে আগত এক সমাজকর্মী জানালেন, তাঁর জেলায় কিছু মানুষ রূপান্তরকামী হিসাবেই জমির পাট্টা পেয়েছেন। এই আইন আসার পর তাঁরা কীভাবে চিহ্নিত হবেন তা নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন, কারণ তাঁদের অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে লিঙ্গ পরিবর্তনের প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি। আবার এমন অনেক মানুষ আছেন, যাঁদের রূপান্তর প্রক্রিয়া চলছে। হয়ত তাঁরা হরমোন ইঞ্জেকশন নিতে শুরু করেছেন, কিন্তু এখনো অস্ত্রোপচার হয়নি। তাঁরা কি এই নতুন আইন অনুযায়ী অস্ত্রোপচার করাতে পারবেন? ডাক্তাররা কি ভয় পাবেন না এ কাজ করতে?
আরো পড়ুন ধর্ষণের চেষ্টা প্রমাণ করতে গেলে ধর্ষিত হতে হবে?
নতুন আইনে যে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, তাও ভাবাচ্ছে বহু মানুষকে। ডাক্তারদের ফোরাম, মনোবিদ, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করেন— এমন সমাজকর্মীরা ভীষণভাবে চিন্তিত। হঠাৎ করে তাঁদের উপর দোষারোপ করা হবে না তো? কারণ স্পষ্ট করে বলা হয়নি, ঠিক কোন কোন কারণে শাস্তি পেতে হতে পারে। যেসব রূপান্তরকামী মানুষ নিজের পরিবারেই নির্যাতিত, তাঁদের আশ্রয় দিলেও কি কোনো সংগঠনের বিরুদ্ধে এই আইন অনুসারে পরিবার মামলা ঠুকতে পারে? এমন নানাবিধ প্রশ্নে জর্জরিত এক সভায় এক রূপান্তরকামী মানুষ উঠে দাঁড়িয়ে বললেন ‘এসআইআর ভোটার লিস্ট থেকে আমার নাম কেটে দিয়েছে। এখন বোধহয় আমার ট্রান্সজেন্ডার কার্ডটাও চলে যাবে। এরপরের পদক্ষেপ কি আমাকে বেনাগরিক ঘোষণা করা?’ স্বভাবতই আমাদের কারও কাছেই কোনো উত্তর নেই এই প্রশ্নের।
ট্যাক্সিচালক আমাকে প্রশ্ন করেছিলেন— কেন্দ্রীয় সরকার নাহয় বঞ্চনা করছে, মমতা দিদি কি এদের জন্য কিছু করতে পারেন না?
সংসদে এই আইন নিয়ে আলোচনার সময়ে কিন্তু প্রতিটি বিরোধী দলই এই আইনের বিপক্ষে কথা বলেছে। তার মধ্যে কংগ্রেসের রেণুকা চৌধুরী এবং নির্দল সাংসদ জয়া বচ্চন যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বক্তৃতা দিয়েছেন। তৃণমূলের সংসদ জুন মালিয়াও এই আইনের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। অবশ্য ভারতের এখনকার রাজনৈতিক দস্তুর অনুযায়ী, কোনো বিরোধী দলের কথাই সংসদে গ্রাহ্য করা হয়নি। কাজেই রূপান্তরকামী মানুষজনের রাহুল গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাৎ বা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করা— সবই এই মুহূর্তে ব্যর্থ মনে হচ্ছে।
সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ যে কথা ভোটমুখী পশ্চিমবঙ্গে দাঁড়িয়ে মনে হচ্ছে, তা হল, এই মানুষগুলোর জন্যে কোনো রাজনৈতিক দলই সময় নষ্ট করতে প্রস্তুত নয়। সিপিএম পলিটবুরো এই বিল প্রত্যাহার করার দাবি তুলে বিবৃতি দিয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনের প্রার্থীদের কাউকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে মুখ খুলতে দেখা যায়নি। মেনকা গুরুস্বামীকে রাজ্যসভায় পাঠিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস নিজেদের এলজিবিটি সম্প্রদায়ের সম্পর্কে সংবেদনশীল হিসাবে প্রচার করলেও, ভোটের প্রচারে এই আইন নিয়ে কথা বলতে দেখা যাচ্ছে না। রাণুছায়া মঞ্চের প্রতিবাদ সভায় লিবারেশনের প্রার্থী মানস ঘোষ যোগদান করেছিলেন, আর কোনো প্রার্থীকে আমরা দেখতে পাইনি।
একথা সত্য যে রূপান্তরকামী মানুষের সংখ্যা খুব কম, ফলে তাঁদের ভোটের পিছনে দৌড়নোর তাগিদ হয়ত রাজনৈতিক দলগুলোর নেই। তাই প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, এসআইআরের মাধ্যমে পশ্চিমবাংলায় প্রান্তিক মানুষকে বেনাগরিক করে দেওয়ার যে চক্রান্ত চলছে, তারই একটা ছোট সংস্করণ কি এই সংশোধনী আইন?
মতামত ব্যক্তিগত
নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন।
টুইটারে আমাদের ফলো করুন।
আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগ দিন।








