‘মা আমি বলে যাচ্ছি যে আমি কুড়কুড়াটি রাস্তার ধারে কুড়িয়ে পেয়েছিলাম চুরি করিনি।’ ক্লাস সেভেনের ছাত্র কৃষ্ণেন্দুর সুইসাইড নোট বলে যা পাওয়া গেছে, তাতে লিখে যাওয়া এই শেষ কথাটুকু আমাদের অনেকের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে, অন্তত কিছুদিনের জন্য। ‘শিশুর মৃত্যু’ কথাটায় আমাদের অন্তরাত্মা যতখানি কেঁপে ওঠার কথা, তার তীব্রতা খানিক কমিয়ে দিয়েছে প্রতিনিয়ত সামনে ভেসে ওঠা শিশুমৃত্যুর পরিসংখ্যান। গাজায় হাজার হাজার ফুলের মত শিশুর ঝরে যাওয়ার ছবি প্রতিদিন দেখছি সোশাল মিডিয়ায়। কোথাও হাসপাতালে আগুন লেগে ভাল করে চোখ ফোটারও আগে ঝলসে যাচ্ছে সদ্যোজাত শিশুরা। পরদেশ দখলের যুদ্ধে, ক্ষুধা-অপুষ্টিতে, যৌন নির্যাতনে শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার খবর নিয়ে প্রায় প্রতিটি সকাল এখন ‘রাতের চেয়েও অন্ধকার’। তবু, এই রাজ্যেই, আমাদের শহর থেকে সামান্য দূরে গোলগাল ফুটফুটে চেহারার একটি স্কুলপড়ুয়া ছেলেকে সামান্য চিপসের প্যাকেটের জন্য শেষ পর্যন্ত মরে যেতে হল এবং যাওয়ার আগে সে জেনে গেল, মানুষের প্রতি মানুষের নির্মম অবিশ্বাসই এই পৃথিবীর শেষ সত্য – এই ঘটনা মেনে নিতে আমাদের কষ্ট হয়। ভয়ানক কষ্ট।

সপ্তম শ্রেণির ছাত্র কৃষ্ণেন্দু পাড়ার চিপসের দোকানে কাউকে না পেয়ে রাস্তায় পড়ে থাকা প্যাকেট কুড়িয়ে নিয়েছিল। ওই দোকানদার এরপরই বাইকে করে তার পিছনে ধাওয়া করেন, তাকে পাকড়াও করে চোর অপবাদ দেন, রাস্তায় কান ধরে ওঠবোস করান। চিপসের দাম দিয়ে দেওয়ার পরেও রেহাই মেলেনি। বাড়িতে ফিরে সব কথা বলায় জোটে আরও বকুনি, মা কৃষ্ণেন্দুকে নিয়ে আবার সেই দোকানে আসেন, আরেক প্রস্থ বাদানুবাদ চলে। বাড়ি ফিরে ছেলেটি চরম সিদ্ধান্ত নিয়ে নিল। যে সত্য সবাইকে হাজারবার বলেও কৃষ্ণেন্দু বিশ্বাস করাতে পারেনি, কীটনাশক খাওয়ার আগে সেটাই লিখে গেছে মায়ের উদ্দেশে। হয়ত সেই চরম মুহূর্তেও তার মনে হয়েছে – মা একদিন ঠিক বুঝবে, আর কেউ না হোক, মা অন্তত বিশ্বাস করবে আমায়। কৃষ্ণেন্দু আর এই পৃথিবীতে নেই, তার নামটা আছে খবরের শিরোনামে। দুদিন পরে, হয়ত বা দুমাস পরে, আরও অজস্র ভাল-খারাপ খবরের ভিড়ে কৃষ্ণেন্দুর কথা আমরা ভুলে যাব। কৃষ্ণেন্দুর মা-বাবাকে বেঁচে থাকতে হবে সন্তানহীন এই পৃথিবীতেই, যে বাঁচা মৃত্যুর চেয়েও কঠিন।

নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন

~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

পাঁশকুড়ার কৃষ্ণেন্দু দাসের আত্মহত্যা যে আসলে হত্যা – এ নিয়ে সম্ভবত আমরা কেউই দ্বিমত হব না। কিন্তু হত্যাকারী কি শুধুই ওই দোকানদার শুভঙ্কর দীক্ষিত? এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় বহু মানুষ বলছেন, ‘সিভিক ভলান্টিয়ার মানেই এরকম’, ‘ওরা ওরকমই হয়’, ‘ওদের ধরে পেটানো উচিত’ ইত্যাদি। ওই দোকানদার ঘটনাচক্রে একজন সিভিক ভলান্টিয়ার ঠিকই, কিন্তু সেই পরিচয়টাই কি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ? না হলে কি এই ঘটনা ঘটা অসম্ভব ছিল? সাম্প্রতিক অতীতে আর জি করের ঘটনা এবং তার পরের কিছু অভিজ্ঞতা জুড়ে জুড়ে ‘সিভিক ভলান্টিয়ার’ শব্দটা সম্পর্কে হয়ত আমাদের মধ্যে একটা তিক্ততা তৈরি হয়েছে। কিন্তু তাও বলব, এইভাবে সাধারণীকরণ করা অসংবেদনশীলতার পরিচয়, ওই পেশায় নিযুক্ত অসংখ্য সাধারণ মানুষের প্রতি অন্যায়। সিভিক ভলান্টিয়ার নিয়োগ, তাদের ক্ষমতার গণ্ডি নির্ধারণ এবং তাদের অপরাধের শাস্তিবিধানের ক্ষেত্রে যা কিছু অন্যায়, অব্যবস্থা – তার সম্পূর্ণ দায়দায়িত্ব প্রশাসন তথা সরকারের। এর বাইরে কিন্তু একজন সিভিক ভলান্টিয়ার কর্মহীনতায় জর্জরিত, নাচার যুবসমাজের একটা অংশ মাত্র। সেদিন ওই দোকানদার যা করেছেন, তার পিছনে আছে দুর্বলকে নাগালে পেয়ে তার উপর গায়ের ঝাল মেটানোর প্রবণতা, একটা ছোট্ট ছেলের উপর ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে নিজের হতাশা উগরে দেওয়ার মানসিকতা। পাড়ায়, স্কুলে, এমনকি বহু বাড়িতেও শিশুদের উপর ঘটে চলা মানসিক নির্যাতনের কারণ ঘাঁটলে এইসব প্রবণতা বারবার চোখে পড়বে। শুভঙ্কর ঘটনার পর থেকে ফেরার। এলাকার লোক তাঁর বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছে, একটা রাজনৈতিক দল থানায় ডেপুটেশন দিয়ে শুভঙ্করের শাস্তি চেয়েছে। কোনো কোনো রাজনৈতিক নেতা কৃষ্ণেন্দুর পরিবারের সঙ্গেও দেখা করেছেন। চারপাশে আইনশৃঙ্খলার দশা দেখে অভিযুক্তের উপযুক্ত শাস্তি হবে বলে ভরসা হয় না। তাও অবশ্যই চাইব এই জঘন্য অপরাধের কঠোর শাস্তি হোক।

এবার একটু সরে এসে অন্যদিকে তাকাই। সেদিন ঘটনা ঘটেছে দিনের বেলা, রাস্তার উপর। যখন ছেলেটাকে এনে চোর অপবাদ দেওয়া হচ্ছে, সবার সামনে কান ধরে ওঠবোস করানো হচ্ছে, সেখানে নিঃসন্দেহে বহু মানুষ উপস্থিত ছিলেন। কেউ কিন্তু বাধা দেননি। দু-একজন মৃদু আপত্তি করে থাকলেও বেশিরভাগ নীরব ছিলেন। সিসি টিভি ফুটেজে কৃষ্ণেন্দু যে সত্যিই চুরি করেনি, তার প্রমাণ পাওয়ার পর ওই সিভিক ভলান্টিয়ারের শাস্তির দাবি আরও জোরালো হল। আচ্ছা, ছেলেটি যদি সত্যিই দুটো চিপসের প্যাকেট চুরিও করত, তাহলেও কি এই ঘটনা ন্যায্যতা পায়? বারো বছরের ছেলের চিপস চুরির অপরাধে কতখানি কঠিন শাস্তি প্রাপ্য হতে পারে? চুরি করে থাকলেও তাকে ডেকে বুঝিয়ে বলাই কি স্বাভাবিক আচরণ ছিল না? ছেলেটা ফিরে এসে চিপসের দাম দিয়ে দিয়েছে, বারবার বলেছে আমি চুরি করিনি, অথচ বহু মানুষের চোখের সামনেই অনেকক্ষণ ধরে এত বড় অন্যায় ঘটে গেল। দোকানদারের নিষ্ঠুরতায় বাধা দেওয়ার মত, একটা ছোট্ট ছেলের উপর নির্যাতন হচ্ছে দেখেও এগিয়ে এসে আটকানোর মত, নিদেনপক্ষে ছেলেটাকে ওই ঝড় থেকে বাঁচিয়ে আদর করে কাছে টেনে নেওয়ার মত কাউকেও পাওয়া গেল না?

আয়নার সামনে দাঁড়ালে উত্তর পাব ‘আমার ব্যাপার তো নয়, ঝামেলায় গিয়ে কাজ নেই’। এই নিস্পৃহতা আমাদের প্রতিনিয়ত অমানুষ করে ফেলছে, হয়ত আমাদের অজান্তেই। কৃষ্ণেন্দু এমন করে শেষ হয়ে যাক আমরা তো কেউ চাইনি। সেদিন যাঁরা ওখানে ছিলেন, তাঁরাও পরে এই দুঃসংবাদ পেয়ে নিশ্চিতভাবে গুমরে মরেছেন। আমরা প্রতিদিন রাস্তাঘাটে বহু অপ্রীতিকর দৃশ্য দেখে যেভাবে দূর থেকে সরে যাই, ওঁরাও সেদিন তেমনটাই করেছিলেন, নিছক অভ্যাসে। শুধু কৃষ্ণেন্দু জীবন দিয়ে প্রমাণ করে গেল, সর্ব অর্থে ছিন্নমূল হতে বসা এই সময় আমাদের ঔচিত্যবোধকেও নষ্ট করে ফেলেছে অনেকদূর।

আরো পড়ুন ওদের অ্যাডলেসেন্স, আমাদের ভাল না থাকা কিশোররা

বাড়িতে এসে সব কথা খুলে বলেছিল কৃষ্ণেন্দু, নিশ্চই আশা করেছিল মা-বাবা তাকে বিশ্বাস করবেন। মা-বাবা কি ছেলের কথা আরেকটু মন দিয়ে শুনতে পারতেন না? লোকের দেওয়া মিথ্যা অপবাদের জেরে মেজাজ হারানোর আগে যদি সন্তানের কথার উপর আরেকটু ভরসা, বিশ্বাস রাখতেন? আচ্ছা, কৃষ্ণেন্দুর যদি এমন কোনো দাদা, কাকু, স্যার বা ম্যাডাম থাকতেন যাকে সে মন খুলে সব কথা বলতে পারে? এমন কেউ, যিনি মাথায় হাত বুলিয়ে শিখিয়ে দিতে পারেন ‘বাবা তোমার সঙ্গে যা হয়েছে তা অন্যায়, কিন্তু তার জন্য এমনভাবে ভাবতে নেই। জীবন অনেক বড়, অনেক সুন্দর। একটা মিথ্যে অপবাদের জন্য এই মূল্যবান জীবন তুমি নষ্ট কোরো না।’ মনের কষ্ট উজাড় করে দেওয়ার একটা ভরসার আশ্রয় কি এই সমাজে কৃষ্ণেন্দুদের প্রাপ্য ছিল না? বাড়ি ফিরে ছেলেটা যখন ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিল, তখনো মা-বাবা আসন্ন সর্বনাশের আঁচ পাননি। ছেলেকে এই সময় এক মুহূর্তও একা ছাড়া ঠিক নয় – এ ভাবনা তাঁদের মাথাতেই আসেনি। ছেলে দোষ করুক বা না করুক, ওর জন্য যে কটা বাইরের লোকের সামনে এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে গেল, ছেলেকে একজন চোর বলে বদনাম দেওয়ার সুযোগ পেল – এই অসহায় রাগে, দুঃখে তখন তাঁদের সমস্ত মন জর্জরিত। এখানেই কৃষ্ণেন্দুদের মনোজগতের সঙ্গে আমাদের বিরাট ব্যবধান। মনে পড়ে, ক্লাস টু-তে পড়ি যখন, একদিন এক বন্ধুর জলের বোতল কোনো কারণে ক্লাসরুমের জানালা থেকে সরিয়ে মাটিতে রেখেছিলাম। সে নালিশ করায় এক দিদিমণি প্রচণ্ড বকে দিয়ে বলেছিলেন, ‘না বলে অন্যের জিনিসে হাত দিলে তাকে কী বলে জানো না?’ অত সামান্য কারণে ভরা ক্লাসরুমে চোর বদনাম শোনার সেই যন্ত্রণা, সেই কান লাল, চোখভর্তি জলের মুহূর্তটা মনে পড়ল কৃষ্ণেন্দুর কথা ভাবতে গিয়ে। বাড়ি ফিরে নিশ্চয়ই মায়ের কাছে কেঁদেছিলাম। এমন মিথ্যে অপবাদের কষ্ট ছাত্রজীবনে আরও কয়েকবার সইতে হয়েছে। আমার মত অনেকেই স্মৃতি খুঁড়লে মনে করতে পারবেন এমন কিছু মুহূর্ত। কিন্তু এর প্রতিক্রিয়ায় নিজেকে শেষ করে দেওয়ার কথা আমাদের মাথায় আসতেই পারত না। কখনো মনে এলেও, আমার কিছু হলে মা-বাবা কতখানি কষ্ট পাবেন, সেই ভেবেই বরং নতুন করে কেঁদে ফেলার সম্ভাবনা ছিল। এখন সেই পরিমন্ডল পাল্টে গেছে। কাগজে, বিজ্ঞাপনে, সিনেমায়, আলাপ আলোচনায় ‘সুইসাইড’ এবং ‘সুইসাইড করার নানাবিধ উপায়’ ঘুরে ফিরে আসে। ‘আমি’ শব্দটাই যাতে প্রত্যেকটা মানুষের কাছে সবচেয়ে প্রিয়, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে – তার নানাবিধ উপকরণ ছড়ানো সর্বত্র।

ভেবে দেখবেন, ছোটদের আত্মমর্যাদাবোধ নিয়ে আমরা যে ভাবি না, তা কিন্তু নয়। বরং তাদের অভিমান, সম্মান, মতামত, ইচ্ছে-অনিচ্ছার কথা আজকাল অনেক বেশি আলোচিত। ছেলেপুলের অভিমান, রাগ ইত্যাদির কথা ভেবে অনেক মা-বাবা এখন দ্বিধাগ্রস্ত থাকেন, উচিত শাসনটুকু করতেও ভয় পান। নিজের মত থাকতে দিচ্ছেন ভেবে সন্তানের মনের পরিবর্তন, উথাল-পাথালের খোঁজ রাখেন না। কঠিন বাস্তবের সঙ্গে, অপমানের সঙ্গে, অপবাদের সঙ্গে লড়তে শেখাও যে জীবনের একটা জরুরি শিক্ষা – সেকথা আমরা প্রায়শই ভুলে যাই। আবার যে মুহূর্তে বুকে জড়িয়ে ধরে ভরসা দেওয়া উচিত, মন দিয়ে শোনা উচিত, সেই মুহূর্তগুলোতে কখনো কখনো এমন ভয়ানক গোলমাল হয়ে যায়। তবে কি ‘সন্তানের সম্মান’ ভেবে যাকে বাঁচিয়ে রাখতে চাইছি, তা আসলে আমাদের মিথ্যা সম্মানবোধ? সবাই যেভাবে সন্তানকে চালনা করছে, প্রশ্নহীনভাবে সেই একই লাইনে এসে দাঁড়াতে পারার, স্রোতে ভাসতে পারার স্বস্তি? নিজের না মেটা আকাঙ্ক্ষা সন্তানের মধ্য দিয়ে চরিতার্থ করতে পারার অদম্য জেদ?

কৃষ্ণেন্দু আর ফিরবে না। কিন্তু তার মত আরও যে কৃষ্ণেন্দুরা মনের মধ্যে অনেক না বলতে পারা কষ্ট চেপে ঘুরছে, তাদের জন্য এসব প্রশ্নের উত্তর আমাদের খুঁজতে হবে।

কিছুদিন আগে হুমায়ুন আহমেদের একখানা চমৎকার গল্প পড়েছিলাম। ক্লাস সেভেনের বাবলু অঙ্কে ফেল করেছে, ইস্কুলের রাগী ধীরেন স্যার বাবলুর খাতায় লিখে দিয়েছেন ‘গরু’। স্কুলে বন্ধুদের হাসিঠাট্টা, স্যারের বকুনির পর বাড়ি ফিরে কী কী সহ্য করতে হবে ভাবলে বাবলুর গায়ে জ্বর আসে। মনের দুঃখে বাড়ি না গিয়ে সে যখন এক নির্জন গাছতলায় বসে আছে, যেদিকে দুচোখ যায় চলে যাওয়ার কথা ভাবছে। তখন সেখানে হাজির হয় এক ভিনগ্রহের প্রাণী। একথা সেকথার পর সে বাবলুর কাঁধে ঝুলিয়ে দেয় একটা বিশেষ ধরনের সংযোগস্থাপন যন্ত্র, যে যন্ত্র দিয়ে অন্য মানুষের মনের অবস্থা বোঝা যায়। সেই যন্ত্রে বাবলু দেখে, বাবা মনে মনে ভীষণ কষ্ট পাচ্ছেন, অস্থির হয়ে কান্নাভেজা চোখে বাবলুকে খুঁজছেন, ছেলেকে অতিরিক্ত বকাবকি করেন বলে অনুতাপ হচ্ছে তাঁর। ধীরেন স্যারও একইভাবে কষ্ট পাচ্ছেন বাবলুর জন্য, ঠিক করছেন তাকে আর কখনো এমন বকবেন না। কিছুক্ষণের মধ্যেই বাবা আর ধীরেন স্যার চলে আসেন, ওই ভিনগ্রহের প্রাণী বিদায় নেয়। বাবলুকে দেখেই বাবা তার গালে এক চড় কষিয়ে দেন, বাবা আর ধীরেন স্যার মিলে প্রচণ্ড বকুনি দিতে থাকেন। বাবলুর কিন্তু একটুও রাগ হয় না। কারণ এখন সে নিশ্চিত জানে, এসব তাঁদের মনের কথা নয়। আসলে তাঁরা দুজনেই বাবলুকে খুব ভালোবাসেন।

কৃষেন্দুর চলে যাওয়ার সামনে অসহায় দাঁড়িয়ে কেবলই মনে হয়, সংযোগস্থাপনের সেই যন্ত্রটা কি আমাদের গ্রহ থেকে চিরতরেই হারিয়ে গেল?

মতামত ব্যক্তিগত

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.