শৈবাল গৌতম
ভারতীয় ফুটবল নিয়ে যাঁদের সামান্যতম আগ্রহ আছে, অথবা বলা ভালো, যাঁরা এই ডামাডোলের বাজারেও এই বিশেষ বিষয়টি নিয়ে বিন্দুমাত্র কৌতূহল জিইয়ে রাখতে আজও সমর্থ, তাঁরা সকলেই একটি ব্যাপার নিয়ে অবশ্যই সহমত হবেন। প্রায় দেড়শো বছর ধরে নিয়মিত খেলা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক আসরে ভারতীয় ফুটবলের অস্তিত্ব আজও নেহাত অকিঞ্চিৎকর। ষাট-সত্তর বছর আগে এশিয়ান গেমসে গোটা দুই সোনার মেডেল ছাড়া তাদের বুক বাজিয়ে বলার মত কোনোকালেই তেমন কিছু ছিল না, সেই স্বাধীনতার ঊষালগ্ন থেকে এদেশের ফুটবল চলেছে স্রেফ খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে।
কথাটা যেমন ঠিক, তেমন একথাও অনস্বীকার্য যে ভারতীয় ফুটবলের পথ কোনোদিন কুসুমাবৃত না হলেও, আজকের মত এমন কণ্টকাকীর্ণ সমস্যাসংকুল রাস্তা দিয়ে এদেশের ফুটবলকে এতাবৎকাল হাঁটতে হয়নি। এই অতি জনপ্রিয় খেলাটির এমন শুষ্ক নয়ন, এমন রুক্ষ কেশের দিকে তাকিয়ে এত দীর্ঘশ্বাস ফেলতে হয়নি এদেশের ফুটবলপ্রেমীদের।
নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান
প্রিয় পাঠক,
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।
গৌরচন্দ্রিকা ছেড়ে সরাসরি একটা কথা বলে নেওয়াই ভালো – এই মুহূর্তে ভারতীয় ফুটবলে ফিরে এসেছে সেই বছর চারেক আগে ফেলে আসা কোভিডকাল। প্রায় ২৫০ দিন হতে চলল সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন তাদের প্রিমিয়ার ডিভিশন লিগের একটি ম্যাচও অনুষ্ঠিত করেনি, এমনকি দ্বিতীয় এবং তৃতীয় ডিভিশনের খেলাও শুরু করেনি। ঠিক কবে শুরু হবে সেকথাও জানানোর প্রয়োজন মনে করেনি। একই অবস্থা মহিলা ফুটবলেও। ঢক্কানিনাদ সহকারে থালা বাটি কাঁসি বাজিয়ে জানান না দিলেও ভারতীয় ঘরোয়া ফুটবলে এখন অঘোষিত লকডাউন। কবে আবার মঞ্চের পর্দা উঠবে, অথবা অদূর ভবিষ্যতে আদৌ উঠবে কিনা, কারোর জানা নেই। গত বুধবার (৩ ডিসেম্বর) দেশের ক্রীড়ামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পরেও সে অনিশ্চয়তা কাটেনি, কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধান সূত্র বেরিয়ে আসেনি।
দশচক্রে ভগবান ভূত
কেন এই অচলাবস্থা? সে প্রশ্নের জবাব এককথায় দেওয়া কঠিন। কারণ সমস্যা যত জটিল হয়েছে, ততই চারিদিকে ভিড় বাড়িয়েছে সেইসব চরিত্র অথবা সংস্থা, যারা জট ছাড়াবার বদলে সমস্যাগুলিকে জটিলতর করে তুলেছে। এই মুহূর্তে প্রধান আসামী অবশ্যই সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন, বিভিন্ন সোশাল মিডিয়ায় নির্মম আক্রমণে যারা প্রতিদিন ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে। ফেডারেশনকে বিন্দুমাত্র আড়াল করবার চেষ্টা না করেও বলতে দ্বিধা নেই, আজকের এই অবস্থার জন্য অপদার্থ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি কিন্তু সমানভাবে দায়ী তাদের দীর্ঘদিনের মার্কেটিং পার্টনার হিসাবে পরিচিত মুম্বাইয়ের একটি বিশেষ কোম্পানি, কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রকের হঠকারিতা এবং কিছুটা হলেও ফেডারেশনের সংবিধান নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের নির্বাচিত অংশ। সত্যি কথা বলতে কি, আঙুল তোলা শুরু করলে শেষ অবধি ঠগ বাছতে গাঁ উজাড় হয়ে যাবে। অতএব সে প্রয়াস না করে দেখে নেওয়া যাক প্রধান সন্দেহভাজন ঠিক কারা, ব্যক্তিগত স্বার্থ পূরণে যারা প্রতিদিন জলাঞ্জলি দিচ্ছে এদেশের ফুটবলকে।
সুনিশ্চিত আর্থিক নিরাপত্তা
এই সমস্যার শুরু কিন্তু আজ নয়। এই সংকটের বীজ প্রোথিত হয়েছে সেই ২০১০ সালে, যেদিন কর্ণবিদারী ডম্বরু বাজিয়ে বিপুল অর্থের জোগান নিশ্চিত করে ভারতীয় ফুটবলে প্রবেশ করেছে ফেডারেশনের মার্কেটিং পার্টনার নামে পরিচিত কোম্পানিটি। বলতে দ্বিধা নেই, তারা লিখিত চুক্তির সামান্যতম খেলাপ করেনি, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে নির্ধারিত পরিমাণ টাকা দিয়ে গেছে প্রশ্নাতীত সততার সঙ্গে, এর মধ্যে শেষ বছর পাঁচেক ফেডারেশনকে দিয়েছে বাৎসরিক ৫০ কোটি টাকা। এছাড়াও সম্পূর্ণ গাঁটের কড়ি খরচ করে প্রতি মরশুমে বিপুল জাঁকজমকের সঙ্গে আয়োজন করেছে ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (আইএসএল) নামক এক মহাযজ্ঞের। সন্দেহ নেই, এমন ঝাঁ চকচকে পেশাদার অথচ মসৃণ লিগ সংগঠন ভারতের ফুটবলে এক অভূতপূর্ব ঘটনা। ফুটবলের উন্নতিতে পুরো ব্যাপারটা কতটা কার্যকর হয়েছে সেই তর্কে না গিয়েও বলা যায়, ভাবমূর্তি তৈরি করার ব্যাপারে এই লিগ যথেষ্ট সফল প্রয়াস।
কিন্তু মুশকিল হল, শাইলকরা চিরজাগ্রত ও চিরসজাগ। এক্ষেত্রেও তার ব্যত্যয় হয়নি। স্রেফ টাকা এবং উন্নততর সংগঠনের জোরে গত ১৫ বছর ধরে একটু একটু করে তারা নিজেদের রাজ্য বিস্তার করেছে ফেডারেশনের অন্দরমহলে। বারবার দেখা গেছে, বহু ছোট বড় সিদ্ধান্তে তারাই শেষ কথা বলেছে। নির্বাচিত কমিটি তাদের ক্রীড়নকে পরিণত হয়েছে। ২০১৪ সালে যে আইএসএল আত্মপ্রকাশ করেছিল একটি তিনমাসের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ হিসাবে, বছর পাঁচেকের মধ্যে ফেডারেশানের সরকারি প্রতিযোগিতা আই লিগকে দ্বিতীয় ডিভিশনে নামিয়ে দিয়ে সেটি আজ দেশের প্রধান লিগ হিসাবে নিজের জায়গা সুদৃঢ় করে ফেলতে সমর্থ হয়েছে। বারংবার দেখা গেছে, ফেডারেশনের কমিটি নয়, মার্কেটিং পার্টনারই শেষ কথা। কারণ তারা টাকা দেওয়া বন্ধ করে দিলে ফুটবলের যাবতীয় কাজকর্ম বন্ধ হয়ে যাবে।
আরো পড়ুন এশিয়ান কাপ কেলেঙ্কারির তদন্ত হওয়া জরুরি
অনেকেই বলতে পারেন, ধান ভানতে শিবের গীত গাওয়া হচ্ছে। কিন্তু ঘটনা হল, এই আপাত বহুশ্রুত কাহিনীর মধ্যেই লুকিয়ে আছে আজকের দিশাহীন পতনের গল্প। পনেরো বছর কেটে গেছে, ডিসেম্বর মাসের আট তারিখে শেষ হয়ে যাচ্ছে ফেডারেশনের সঙ্গে মার্কেটিং পার্টনার কোম্পানিটির চুক্তির মেয়াদ, এবং ঝোপ বুঝে কোপ মেরেছে মুম্বাইয়ের সংস্থাটি। ফেব্রুয়ারি এবং মার্চ মাসে পরপর দুটি সভায় চুক্তি নবীকরণের আশা প্রায় ধূলিসাৎ করে তারা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে – আগামী দিনে তারা আর বছরে ৫০ কোটি টাকা দিতে মোটেই রাজি নয়। গত পনেরো বছরে তাদের নাকি ৫০০ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। পাল্টা প্রস্তাব যা দিয়েছে তা রীতিমত অপমানকর – যৌথভাবে লিগের আয়োজন করে লভ্যাংশের কিছু অংশ ফেডারেশন নিতে পারে, তার বাইরে আর কিছু দেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এককথায় সরাসরি দরজা দেখিয়ে দিয়েছে ফেডারেশনকে।
স্বভাবতই অথৈ জলে পড়ে গেছে ফেডারেশন। গত ১৫ বছর ধরে দেশের প্রিমিয়ার লিগ প্রায় পুরোপুরি কুক্ষিগত করে ফেলেছে তাদের মার্কেটিং পার্টনাররা। এই মুহূর্তে কলকাতার তিনটি এবং বেঙ্গালুরুর একটি বাদে আইএসএলের বাকি সবকটি দলই মুম্বাইয়ের এই কোম্পানিটির বি টিম বললে অত্যুক্তি হয় না। খাতায় কলমে অবশ্য এগুলির মালিক দেশের বিভিন্ন কর্পোরেট সংস্থা, যারা এই মার্কেটিং কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কথায় ওঠে বসে বলেই ফুটবল মহলে সবার বিশ্বাস। বাজারে জোর খবর, অন্য কোনো সংস্থা যদি মার্কেটিং পার্টনার হিসাবে আসে, তাহলে বেশ কিছু ক্লাব হয়ত ঝাঁপ বন্ধ করে প্রায় বিনা নোটিসে ক্লাব তুলে দেবে।
অতএব যা হবার তাই হয়েছে, স্পনসরের অভাবে বন্ধ হয়ে রয়েছে আইএসএল। তাদের যাবতীয় কাজকর্ম বন্ধ করে দিয়েছে বেশ কয়েকটি ক্লাব, ফুটবলারদের টাকা পয়সা দেওয়া বন্ধ করেছে অনেকেই। ফেডারেশন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে টেন্ডার জারি করে নতুন মার্কেটিং পার্টনার জোগাড় করবার যে প্রচেষ্টা চালিয়েছিল, তাও মুখ থুবড়ে পড়েছে। ভারতীয় ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত হতে আগ্রহ দেখায়নি দেশবিদেশের কোনো সংস্থা। আবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে ফেডারেশন। আদালতের নির্দেশে এখন মাঠে নেমেছে কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রক, যদিও তারা ঠিক কীভাবে এই সমস্যার সমাধান করবে – নিজেরাও জানে বলে মনে হয় না। লকডাউনের ফুটবল এখন মূলত খেলা হচ্ছে আদালত চত্বরে।
দিগভ্রান্ত ফুটবল ফেডারেশন
পাশাপাশি একথাও কেউ যেন না ভাবেন যে মার্কেটিং পার্টনারদের ঘাড়ে সব দোষ চাপিয়ে দিয়ে, বাজার অর্থনীতির বিরুদ্ধে দু-চারটে স্লোগান তুলেই ভারতীয় ফুটবলের প্রতি কর্তব্য শেষ করা যাবে। একটু গভীরে ভাবলেই বোঝা যাবে যে ফেডারেশন কর্তাদের চরম ঔদাসীন্য, পদ আঁকড়ে থাকবার সীমাহীন লোভ এবং স্তম্ভিত করে দেবার মত বাস্তববুদ্ধির অভাব আজ ভারতীয় ফুটবলকে লক আউট ঘোষণা করে রাস্তায় দাঁড়িয়ে যাবার মত পরিস্থিতির সম্মুখীন করেছে। বিস্তারিত কথার মধ্যে না গিয়ে শুধু কয়েকটি বিশেষ প্রশ্ন তুলে ধরলেই বোঝা যাবে, অকর্মণ্যতার ঠিক কোন স্তরে দাঁড়িয়ে ফেডারেশন সভাপতি কল্যাণ চৌবে ও তাঁর চ্যালাচামুণ্ডারা।
১) বর্তমান মার্কেটিং পার্টনারদের সঙ্গে ফেডারেশনের চুক্তির মেয়াদ যে ডিসেম্বর ২০২৫ অবধি, একথা গত ১৫ বছর ধরে সর্বজনবিদিত। অথচ চৌবে ও তাঁর দলবল চুক্তি নবীকরণের আলোচনায় বসলেন মাত্র দশমাস বাকি থাকতে।
২) ফেব্রুয়ারি এবং মার্চ মাসের মুম্বাই ও দিল্লির দুটি সভাতেই ফেডারেশন কর্তারা পৌঁছেছিলেন একেবারেই খালি হাতে। মার্কেটিং পার্টনারদের অবমাননাকর প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে কোনো পাল্টা প্রস্তাব তাঁরা রাখতে পারেননি।
৩) চুক্তির ধারা অনুযায়ী এবছরের মার্চ মাসেই নতুন টেন্ডার বাজারে ছাড়তে পারত ফেডারেশন। কোনো অজ্ঞাত কারণে চৌবে ও তাঁর কমিটি সেই রাস্তাতেই হাঁটেননি।
৪) সুপ্রিম কোর্টে ফেডারেশনের সংবিধান সংক্রান্ত মামলায় ইন্টারলোকুটোরি অ্যাপ্লিকেশন দিয়ে অংশ নেয় মার্কেটিং পার্টনার কোম্পানিটি। আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তারা জানায় যে গত ১৫ বছরে তারা ফুটবলের পিছনে বিপুল পরিমাণ টাকা ব্যয় করেছে। সুতরাং সংবিধানে যেন এমন কিছু না থাকে যাতে তাদের গুরুত্ব কমে যায়। আশ্চর্যজনকভাবে ফেডারেশনের আইনজীবী – যাঁকে শোনা যাচ্ছে সব মিলিয়ে দিতে হয়েছে সোয়া কোটি টাকা – এই ব্যাপারে একটি শব্দও ব্যয় করেননি। তিনি শুধু সারাক্ষণ দাবি জানিয়ে গেছেন চৌবে ও তাঁর কমিটিকে যেন পুরো চারবছর রেখে দেওয়া হয়।
৫) সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ মামলার রায়দানের অন্তত মাস তিনেক আগে জুন মাসে নির্দেশ দেয় যে তাঁদের না জানিয়ে যেন মার্কেটিং পার্টনারদের সঙ্গে কোনরকম আলোচনায় না বসা হয়, অথবা নতুন টেন্ডার বাজারে না ছাড়া হয়। ফেডারেশনের যে এখন শিরে সংক্রান্তি, নতুন স্পনসর ছাড়া বন্ধ হয়ে যাবে যাবতীয় খেলাধুলো – একথা জেনেও চৌবে ও তাঁর কমিটি এই আদেশের বিরুদ্ধে কোনোরকম আবেদন করার চেষ্টাই করেননি।
৬) উপযুক্ত স্পনসরের অভাবে এ মরশুমে মাঠে বল পড়েনি বললেই চলে। আইএসএল, আই লিগ, আই লিগ ২, আই লিগ ৩, ইন্ডিয়ান উইমেন্স লিগ, ইন্ডিয়ান উইমেন্স লিগ ২ – কোনোকিছুই শুরু করতে পারেনি ফেডারেশন। অথচ এক বিস্ময়কর ঔদাসীন্য নিয়ে প্রতিদিন হিল্লি দিল্লি করে বেড়াচ্ছেন চৌবে। তাঁর মুহুর্মুহু বিমানের টিকিট জোগাতে যে পরিমাণ টাকা খরচ হচ্ছে তার হিসাব শুনলে রীতিমত আঁতকে উঠতে হয়।
৭ এবং শেষ প্রশ্ন) দীর্ঘ আট বছর ধরে চলবার পর শেষ অবধি নিষ্পত্তি হয়েছে ফেডারেশনের সংবিধান সংক্রান্ত মামলার। কিন্তু সেই মামলার রায়ের পূর্ণ সদ্ব্যবহার না করতে পেরে বারংবার সেই আদালতেরই দ্বারস্থ কেন হতে হচ্ছে চৌবে ও তাঁর কমিটিকে? মামলার রায় দেওয়ার সময়ে আদালত পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছিল – এরপর ফুটবল ফেডারেশনের দৈনন্দিন ব্যাপারে তাঁরা আর মাথা ঘামাতে নারাজ। কিন্তু অবস্থা এমন সঙ্গীন যে আইএসএলের জন্য কোনো স্পনসর না পেয়ে আবার আদালতকে মধ্যস্থতা করতে বলেছে ফেডারেশন। অনেকেরই ধারণা এতে হিতে বিপরীত হয়েছে, কারণ সম্ভবত কিছুটা বিরক্ত হয়েই আদালত সরকারের পক্ষ থেকে ক্রীড়ামন্ত্রককে হস্তক্ষেপ করতে আদেশ দিয়েছে। এই আদেশ পাবার পর সরকার পক্ষের তরফে সলিসিটার জেনারেল দুই সপ্তাহ সময় চেয়েছেন। সুতরাং নির্দ্বিধায় বলা যায়, খুব দ্রুত আইএসএল শুরু হবার আশা নেই।
তবে এই অবস্থায় সবচেয়ে সুবিধাজনক জায়গায় রয়েছেন চৌবে ও তাঁর কমিটি। নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকবার জন্য তাঁরা এখন নিয়মিত বলতেই পারেন, আমরা আর কী করতে পারি? বল তো এখন আদালত আর সরকারের কোর্টে। তাঁরা যখন এই বল গড়িয়ে আমাদের দিকে দেবেন, তখনই তো আমরা খেলা শুরু করতে পারি।
যুক্তি হিসাবে চমৎকার, কিন্তু ফুটবলের অবস্থা শোচনীয়। সেই শচীন সেনগুপ্ত রচিত সিরাজদ্দৌলা নাটকের সংলাপের মত বলতে হয় ‘কে তাকে আশা দেবে, কে তাকে ভরসা দেবে?’ বর্তমানে যে কমিটি সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের দায়িত্বে, তাদের কাছ থেকে এই দুটি প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার আশা নিতান্ত বাতুলতা।
মতামত ব্যক্তিগত
নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন।
টুইটারে আমাদের ফলো করুন।
আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগ দিন।








