ইলহক আহমেদ তান্তরে

‘এখানকার প্রত্যেকটা পরিবার কয়েক প্রজন্ম ধরে উইলোর কাজে যুক্ত’, বললেন জম্মু ও গন্দেরবাল জেলার শল্লাবাগ গ্রামের ৩১ বছর বয়সী সারওয়ার আহমেদ। ‘আমরা উইলো দিয়ে ঝুড়ি, চেয়ার, টেবিল – এইসব বানাই। আগে আমাদের চিন্তায় ফেলেছিল প্লাস্টিক, এখন চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে আবহাওয়া।’

বহুকাল ধরে উইলো দিয়ে জিনিসপত্র তৈরি করা কাশ্মীরের দৈনন্দিন জীবনের অঙ্গ। পরিবারগুলো উইলো গাছ বড় করে এবং তার কাঠ দিয়ে আগুন জ্বালানোর হাঁড়ি (স্থানীয় ভাষায় ‘কাংরি’), ঝুড়ি, আসবাবপত্র এবং অন্যান্য ঘরোয়া জিনিস তৈরি করে। এ থেকে সারাবছর রোজগার হয়, তবে উইলোর জন্যে নির্ভর করতে উপত্যকার জলা জায়গা, হ্রদ আর নদীগুলোর উপর। কিন্তু আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি ক্রমশ গোলমেলে হয়ে উঠছে, ফলে এই বাস্তুতন্ত্রের উপর চাপ পড়ছে। একদিকে টানা অনেকদিন বৃষ্টি না হওয়ায় জলাভূমি কমে যাচ্ছে, অন্যদিকে হঠাৎ হঠাৎ ভারি বৃষ্টি হওয়ায় কচি উইলো ভেসে যাচ্ছে। এর প্রভাব শাল্লাবাগের অঁচার লেক এবং আশপাশের সওরা, শ্রীনগর আর গন্দেরবাল গ্রামে স্পষ্ট। এইসব জায়গায় একসময় উইলোর ঘন জঙ্গল ছিল, এখন এদিক ওদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।

নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন

~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

সাধারণত উইলো বপন করা হয় ফেব্রুয়ারি-মার্চে আর ফসল তোলা হয় নভেম্বরে। এর জন্যে দরকার আর্দ্র, কিন্তু ভালোভাবে জল বের করে দিতে পারা মাটি, মৃদু গ্রীষ্ম, বেশ শীতল শীতকাল এবং ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে তাপমাত্রা। এগুলো ক্রমশ কাশ্মীর উপত্যকায় বিরল হয়ে পড়ছে।

চরম আবহাওয়া

সারওয়ার বললেন, উইলো গাছ ভালোভাবে বেড়ে উঠতে ২২-২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা প্রয়োজন। কিন্তু গত কয়েক বছরে কাশ্মীরে তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী গরম পড়ছে। জানালেন ‘এবছর গরম আগের চেয়ে অনেক বেশি ছিল।’ জুন থেকে আগস্টের কয়েক সপ্তাহ তাপমাত্রা ৩৩-৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছিল। ওই সময়ের স্বাভাবিক তাপমাত্রা হল ২৮-৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এর ফলাফল পাওয়া গেছে একেবারে হাতেনাতে। উইলোর ডাল গরমে ভেঙে যায় এবং গাছের বাকল শক্ত ও ভঙ্গুর হয়ে গিয়েছিল। সারওয়ার বললেন ‘মাঠ ময়দান সব শুকিয়ে গিয়েছিল। উইলোর বেড়ে উঠতে গোটা সময়টায় আর্দ্রতা দরকার হয়। সেটা এবারে পাওয়াই যায়নি।’

খালগুলো শুকিয়ে যাওয়ায় এবং ঝিলাম নদীতে জল কমে যাওয়ায় ধানেরও ক্ষতি হয়, এমনকি পানীয় জলের অভাব দেখা দেয়। ঝরনা আর পুকুরগুলো লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। একসময় কর্তৃপক্ষকে ওগুলোতে যাওয়ার ব্যাপারে কিছু নিষেধাজ্ঞা জারি করতে হয়, কারণ ওগুলো থেকেই সর্বত্র জল সরবরাহ হয়। দীর্ঘদিন স্কুলগুলো বন্ধ রাখতে হয় এবং স্থানীয় মানুষের কথা অনুযায়ী, বেশকিছু শিশু অসুস্থও হয়ে পড়েছিল। ভারতীয় জলবায়ু বিভাগ বারবার তাপপ্রবাহ সম্পর্কে সতর্কতা জারি করে। বলা হয়েছিল – বিশেষত বয়স্ক মানুষ ও শিশুদের ঝুঁকি রয়েছে।

তারপর বৃষ্টি আসে।

কাশ্মীরের স্বাভাবিক বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১,১২২.৬ মিলিমিটার। কিন্তু ২০২৫ সালে এখন পর্যন্ত মাত্র ৬৫৪.৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। তবে বৃষ্টিপাত বর্ষাকালের পরেও চলেছে। ভারি বৃষ্টি আর ছিটেফোঁটা বর্ষণ চলেছে শরতের শুরু পর্যন্ত, বললেন লতিফ আহমদ। তিনি শের-ই-কাশ্মীর কৃষি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি-আবহাওয়া বিভাগের অভিজ্ঞ বিজ্ঞানী। অন্যদিকে সারওয়ার বললেন ‘যে জমিতে আমরা উইলো চাষ করি, সেখানে সীমিত আর্দ্রতা থাকা জরুরি। কিন্তু এবছর জলস্তর অনেক বেড়ে গিয়েছিল, আর শিকড়গুলো কয়েক সপ্তাহ ধরে জলের নিচে ছিল। এতে আঁশের গুণমানের উপর প্রভাব পড়েছে আর গাছের কাণ্ডও তত টেকসই থাকল না।”

প্রবল গরম আর অতিরিক্ত বৃষ্টি মিলে উইলোকে কাজের উপযোগী করে তোলার প্রক্রিয়ারও ক্ষতি করেছে। তিনি বললেন ‘আমরা কাজ শুরু করার আগে উইলো গরম জলে ফুটিয়ে নিই, তারপর খোসা ছাড়াই। কিন্তু শুকনো গরমে বাকল এত শক্ত হয়ে গেছিল যে ওগুলো ছাড়ানোই যায়নি। প্রচুর পরিমাণ উইলো নষ্ট হয়ে গেছে।”

ভারসাম্য নাশ

শাল্লাবুগ গন্দেরবালের আরেক চাষি, ৩৫ বছর বয়সী রামিজ আলি লোন বললেন ‘এই বছরটা খুব কষ্টের ছিল।’ তিনি জানালেন, অনেক চাষির পুরো ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ‘অগাস্টে কিছুটা স্বস্তিদায়ক পরিস্থিতি ছিল, কিন্তু সেপ্টেম্বরে চার দিনের ভারি বৃষ্টি আর মেঘভাঙা বৃষ্টির ফলে খাল ও জমি প্লাবিত হয়েছিল,” তিনি বললেন। “উইলো চাষে আর্দ্রতা প্রয়োজন ঠিকই, কিন্তু এবার জমি যতটা সামলাতে পারে তার চেয়ে বেশি জল জমে গিয়েছিল। আমাদের কাজের প্রত্যেকটা ধাপ প্রাকৃতিক ভারসাম্যের উপর নির্ভর করে। সেই ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।”

একসময় দরগা হজরতবালে উইলো বোনা খুব সম্মানজনক শিল্প বলে স্বীকৃতি ছিল। এখনো গন্দেরবাল, অঁচার আর শাল্লাবুগে এর চর্চা হয়, কিন্তু আগের সেই স্থান আর নেই। দরগাহ হজরতবালের বুননশিল্পী ফয়াজ আহমদ শাখসাজ জানালেন, উইলো চাষের অবনতি হওয়ায় এই শিল্পের কাঁচামালের গুণমান আর পরিমাণ – দুটোরই ক্ষতি হয়েছে। ‘চাষিদের দুর্বল ফলনের সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে। ফলে আমাদের তৈরি জিনিস তত টেকসইও হচ্ছে না তত শৈল্পিকও হচ্ছে না।’

লতিফের মতে, কাশ্মীরের বৃষ্টিপাতের ধরনে স্পষ্ট পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। তিনি বললেন ‘পরিবর্তন শুধু বৃষ্টির পরিমাণে নয়, কখন আর কীভাবে হচ্ছে তাতেও। অল্প সময় ভারি বৃষ্টি, মেঘভাঙা বৃষ্টি আর অক্টোবর পর্যন্ত অকাল বৃষ্টি এখন বেশি দেখা যাচ্ছে। এ থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে কাশ্মীরের জলবায়ু আরও অনিশ্চিত পর্যায়ে প্রবেশ করছে, যা পশ্চিম হিমালয় জুড়ে যে বৃহত্ত পরিবর্তন হচ্ছে তারই অঙ্গ।”

কাশ্মীর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ চর্চা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মহম্মদ মুসলিম জানালেন, উইলো চাষ বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এতে প্রচুর জল লাগে বলে। ব্যাখ্যা করে বললেন ‘উইলো চাষে বছরে কানাল (১/৮ একর) পিছু প্রায় ৭৫ লিটার জল নিয়মিত ব্যবধানে দরকার। এবছর গাছগুলো শিলাবৃষ্টি, ঝোড়ো হাওয়া ও অতিরিক্ত বৃষ্টির মুখে পড়েছিল। কখনো জলের প্রয়োজনীয় স্তর অতিক্রম করেছে, আবার কখনো প্রচণ্ড গরমে বাকল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একবার উইলো কাঠি শিলার আঘাত পেলে, প্রক্রিয়াকরণের সময়ে ভেঙে যায় এবং ব্যবহার করা যায় না।’

তিনি আরও বললেন, ঋতু পরিবর্তনের সময় ঘেঁটে যাওয়ায় সমস্যা আরও বেড়ে যাচ্ছে। ‘দীর্ঘস্থায়ী গরমে বাকল শক্ত হয়ে যায়। অথচ ওই স্তরটাকেই প্রক্রিয়াকরণের আগে ছাড়িয়ে নিতে হয়। যদি এরকম আবহাওয়া বজায় থাকে, তাহলে উইলো চাষ আর তা উপর নির্ভরশীল শিল্প – দুটোরই দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি হবে।”

জীবিকার চিন্তা

শাল্লাবুগে রামিজ পাঁচ কানাল জমিতে উইলো চাষ করেন। সেখান থেকে পরিবারের আয় হয় এবং গন্দেরবল আর শ্রীনগরের কারিগরদের জন্য কাঁচামাল সরবরাহও চলে। সাধারণভাবে একটা বছরে কানাল পিছু প্রায় ১,২০০ কিলোগ্রাম উইলো উৎপাদিত হয়। রামিজের আশঙ্কা, এ মরসুমে মাত্র ৮০০ কিলোগ্রাম উৎপাদন হবে, ফলে তাঁর আয় কমে যাবে।

কাঠের নমনীয়তা ও মসৃণতা না থাকলে কারিগররা তা সঙ্গে সঙ্গে টের পান। রামিজ বললেন ‘একটা সোজা, শক্ত কাণ্ড দিয়ে টেকসই ঝুড়ি বা আসবাবের অংশ তৈরি করা যায়। কিন্তু এবছর অনেক কাণ্ডই এবড়োখেবড়ো ছিল। এর প্রভাব শুধু আয়ের উপর নয়, শিল্পের গুণমানের উপরেও পড়ছে।”

ভালো উইলো সাধারণত প্রায় দশ ফুট পর্যন্ত বাড়ে। এ বছর খুব কম গাছই অত লম্বা হয়েছে। বেশিরভাগই ২-৬ ফুটে আটকে গেছে। ফলে বড় বড় জিনিস বানানো যায়নি। রামিজ বললেন ‘ছোট কাঠি বড় নকশায় ব্যবহার করা যায় না। তার মানে কম উৎপাদন, কম বিক্রি আর সবার কাজ কমে যাওয়া।”

শ্রীনগরের বুননশিল্পী আব্দুল গনি জানালেন, প্লাস্টিকের জিনিসে বাজার ভরে গেলেও তাঁরা শিল্পটাকে টিকিয়ে রেখেছিলেন। তিনি বললেন ‘এখন ক্রেতারা ফিরছে, কিন্তু আবহাওয়া উৎপাদন অনিশ্চিত করে দিচ্ছে। বন্যা আর খরা সরবরাহ কমিয়ে দিচ্ছে। কাজ আর শিল্পের ভবিষ্যৎ – দুটোই বিপদে পড়েছে।’

শাল্লাবুগের কৃষকদের কাছ থেকে উইলো কেনেন ৩৭ বছর বয়সী ওয়াসিম খান্ডে। তিনি লক্ষ করছেন যে তাঁর খরচ বেড়েছে আর আয় কমেছে। বললেন ‘সাধারণত বছরে কৃষকরা কানাল পিছু ১,২০০-১,৬০০ কিলোগ্রাম উইলো চাষ করেন। এ বছর ফলন নেমে এসেছে প্রায় ৮০০ কিলোগ্রামে। এতে দাম বেড়ে গেছে, আর আমি যতটা মাল তৈরি করব ভেবেছিলাম তা করতে পারিনি।’

নিজস্ব জমি না থাকায় ওয়াসিমের জীবিকা পুরোপুরি জোগানের উপর নির্ভরশীল। তিনি বললেন, ‘যখন উইলো যথেষ্ট পাওয়া যেত, আমি প্রতি মরশুমে প্রায় এক লাখ টাকা উপার্জন করতাম। এখন ফলন ও গুণমান কমে যাওয়ায় আমার আয় অর্ধেকে নেমে এসেছে।”

আরো পড়ুন বিপন্ন লাক্ষাদ্বীপ ও আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ

হাবাক হজরতবালের ৩৩ বছর বয়সী রউফ লোন ১২ বছর ধরে উইলো বুনন করেছেন, তারপর ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি বললেন ‘প্লাস্টিক আসার পর জিনিসের চাহিদা কমে গেছে। এখন উইলো দুর্লভ এবং দামি হয়ে যাওয়ায় এই কাজ করে টিকে থাকা অসম্ভব।’ রউফ এখন ফুটপাথে কাপড় বিক্রি করে দিনে ৫০০-৬০০ টাকা আয় করেন। তিনি যোগ করলেন ‘অনেক উইলো শিল্পী পুরোপুরি কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন।’ তবুও রউফ সুযোগ পেলে তাঁর বৃদ্ধ বাবাকে বুননে সাহায্য করেন। কারণ ‘এটা আমাদের পারিবারিক ঐতিহ্য। কিন্তু নিজের জন্য আমি এতে কোনো ভবিষ্যৎ দেখি না।’

মহিলাদের মজুরি হ্রাস

উইলোকে কাজের উপযোগী করে তোলেন এবং ও প্রক্রিয়াকরণ করেন এমন মহিলাদের আয়ও কমে গেছে। শ্রীনগরের অঁচার হ্রদের কাছে শালবাফ মহল্লার ৪৫ বছর বয়সী শাহনাজা আরও তিনজন মহিলার সঙ্গে মিলে উইলো বাছাই এবং প্রক্রিয়াকরণ করেন। তিনি বললেন ‘আমরা কিলো পিছু ২০ টাকা উপার্জন করি। কিন্তু এবছর কৃষকরা কম চাষের কথা জানাচ্ছেন, কারণ গরম আর শিলাবৃষ্টি অনেক গাছ নষ্ট করে দিয়েছে।’

বাছাই আর প্রক্রিয়াকরণ – দুটোই সময়সাপেক্ষ কাজ। তিনি বললেন ‘১,০০০ কিলো উইলো ঝাড়াই বাছাই করতে প্রায় ১০-১২ দিন লাগে। আর ৬০০ কিলো ফুটিয়ে খোসা ছাড়াতে দিনে প্রায় ৮-৯ ঘন্টা সময় লাগে।’

২০২৪ সালে তিনি একজন কৃষকের জন্য উইলো বাছাই করে প্রায় ৪০,০০০ টাকা উপার্জন করেছিলেন। কিন্তু ‘এবছর কম হবে, কারণ কাজ করার মতো উইলো কম।’ তাঁর সহকর্মী ৩৭ বছর বয়সী নাসিমা যোগ করলেন ‘আমরা শুধু গৃহস্থালির কাজ করি আর উইলো বাছাই করি যখন পাওয়া যায়। এবছর কম কাজ পাব আশঙ্কা করছি, কারণ অনেক উইলোর ক্ষতি হয়েছে।’

অনেক কারিগর এই পরিবর্তনে ইতিমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত। শ্রীনগরের সওরার ৩৮ বছর বয়সী উইলো বুননশিল্পী মনজুর আহমেদ আশঙ্কা করছেন যে এই শিল্প পুরোপুরি হারিয়ে যাবে। বললেন ‘যদি এভাবে চলতে থাকে, সওরায় আর কোনো উইলো শিল্পী থাকবে না। কাঠ দুর্লভ, দাম বেশি আর আবহাওয়ার উপর আমাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।’

দরগা হজরতবালের ৪২ বছর বয়সী বুননশিল্পী ফয়াজ আহমদ শাখসাজের কাছে অবশ্য কাজটা এখনো গভীর তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি মন্তব্য করলেন ‘এই শিল্পই আমার জীবন। এটা দিয়ে শুধু আমার পরিবার চলে না, এটা আমাদের সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যের অংশ।’

প্রতিবেদক একজন ফ্রিলান্স সাংবাদিক। এই প্রতিবেদন 101reporters.com ও নাগরিক ডট নেটের সহযোগিতার ভিত্তিতে মূল প্রতিবেদন থেকে ভাষান্তরিত

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.