কয়েক মাস পরেই কাশ্মীর উপত্যকার আপেল চাষিরা প্রথমে এই অর্থকরী ফলের চাষ, তারপর ফলনের পরবর্তী রাউন্ড নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়বেন। কিন্তু এ বছর তাঁদের মাথায় চেপে বসে থাকবে গত বছরের বিক্রি না হওয়া বিপুল পরিমাণ আপেলের ক্রেটগুলোর চিন্তা। সেগুলো এখনো হিমঘরে রয়েছে। এ বছরের শেষ দিকেও যদি আবার প্রচুর ফলন হয়, তাহলে আপেলের অভূতপূর্ব জোগান তৈরি হবে। তাতে আপেল চাষিদের আর্থিক ধ্বংসের পথ পরিষ্কার হবে। উপত্যকার অনেকে সন্দেহ করছেন, ২০১৯ সালে সংবিধানের ৩৭০ নং অনুচ্ছেদ রদ করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধাচরণ করার শাস্তি হিসাবে কাশ্মীরের শতাধিক বছরের পুরনো আপেল শিল্পকে ধ্বংস করে দেওয়া এবং সেখানকার কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেওয়ার উদ্দেশ্য নিয়েই এই সংকট তৈরি করা হচ্ছে।

কাশ্মীরের আপেল চাষিদের সামনে এই সংকট তৈরি হয়েছে শস্তা, বেআইনিভাবে আমদানি করা ইরানি আপেলে বাজার ভরে যাওয়ার কারণে। উপত্যকার বড় চাষি বা প্রান্তিক চাষি — কেউই দেশি কৃষকদের ক্ষতি করে বিদেশ থেকে এই আমদানির উদ্দেশ্য বুঝে উঠতে পারছেন না। এতে কেবল কাশ্মীরের কৃষকরাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন না, হিমাচল প্রদেশ আর উত্তরাখণ্ডের মত যেসব রাজ্যে আপেল চাষ হয় সেখানকার চাষিরাও শস্তা, আমদানি করা আপেল বাজারে চলে আসার ফল ভোগ করছেন।

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

কাশ্মীরের সোপোর জেলার ৫৮ বছর বয়সী আপেল চাষি ফয়াজ আহমেদ প্রবল দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। ওঁর গত বছরের ফসল এখনো হিমঘরে পড়ে আছে। ২০২০ সালে ক্ষতি হয়েছিল অসময়ে তুষারপাতের জন্য আর তার আগের বছর ৩৭০ নং অনুচ্ছেদ রদ করার ফলে অশান্তির জন্য। গত বছর আশা করেছিলেন ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে যাবে। কিন্তু ভারতের বাজার ইরানিয়ান রেড ডেলিশিয়াস প্রজাতির আপেলে ভরে যাওয়ায় কাশ্মীর এবং দেশের অন্যান্য জায়গার আপেলের চাহিদা মারাত্মক কমে গিয়েছিল। কাশ্মীরের ৭০ শতাংশের বেশি আপেল চাষিরই এই অবস্থা।

“আমি আমার কাছে মজুত আপেল বাজারে বেচতে পারব না, কারণ এখন যা দাম তাতে আমার চাষের কাজে লাগানো টাকাটুকুও উঠবে না,” ফয়াজ বললেন। “আমাদের আপেলের চেয়ে ইরানি আপেল অনেক শস্তা। লোকে আমাদের আপেল কিনবে কেন? জানি না এরকম কেন হচ্ছে। সরকার সারাক্ষণ দেশি জিনিসের উপর জোর দিতে বলছে, এদিকে বেআইনিভাবে আমদানি করা আপেলে আমাদের এখানকার আপেল শিল্পের ক্ষতি গ্রাহ্যই করছে না।”

আমেরিকার নেতৃত্বে একাধিক অর্থনৈতিক অবরোধের মধ্যে থাকা ইরান এই মুহূর্তে অন্য দেশগুলোর সাথে অল্প কিছু বাণিজ্য করতে পারে। ভারত আপেল ও অন্যান্য ফলের উপর ৭০% আমদানি শুল্ক চাপিয়ে রেখেছে, যাতে দেশিয় শিল্পের ক্ষতি না হয়। কিন্তু দিল্লি, মুম্বাই আর গুজরাটের কিছু বড় অ্যাগ্রো আমদানীকারী এই আইনের একটা ফাঁক বের করেছে। তারা ভারত-আফগানিস্তান মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির শুল্কহীন বাণিজ্যের শর্ত ব্যবহার করে আফগানিস্তানের মধ্যে দিয়ে ইরানি আপেল আমদানি করছে।

এসব কিন্তু সরকারের নাকের ডগাতেই চলছে, আর এই প্রক্রিয়া কত বড় সংকট তৈরি করছে সরকার তা দেখেও চোখ বন্ধ করে আছে। কাশ্মীরের অর্থনীতিকে রক্তশূন্য করে দিয়েছে দুটো জিনিস। প্রথমটা হল পাকিস্তান সমর্থিত সন্ত্রাসবাদ, দ্বিতীয়টা ২০১৯ সালের ৫ অগাস্ট ৩৭০ নং অনুচ্ছেদ রদ করা। এই আপেল সংকট তৈরি হয়েছে এমন একটা সময়ে, যখন কাশ্মীরিরা রাজ্যের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতির জন্য দিল্লির দিকে অনেক আশা নিয়ে তাকিয়ে ছিল। তাদের ধারণা ছিল দিল্লি এর মাধ্যমেই তাদের বিশ্বাস অর্জন করার চেষ্টা করবে।

হিমঘরের সমস্যা

শুল্কহীন আমদানি হওয়া আপেলগুলো খালাস করা হচ্ছে দিল্লির আজাদপুর সবজি মান্ডিতে (রাজধানীর সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজারে) ৩৫-৪০ টাকা কেজি দরে। আনা-নেওয়ার খরচ আর এজেন্টের কমিশন ধরেও ওই দামে এই আপেলগুলো বিক্রি হচ্ছে। সেখানে কাশ্মীরি আপেলের একটা ক্রেটের (১৬ কেজি) দাম ১২০০-১৪০০ টাকা, মানে ৭৫-৮০ টাকা কেজি। কাশ্মীর ভ্যালি ফ্রুট গ্রোয়ার্স কাম ডিলার্স ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বশীর আহমেদ বশীর বললেন “দেড় কোটির বেশি ক্রেট কাশ্মীরের বিভিন্ন হিমঘরে বিক্রি না হয়ে পড়ে আছে। প্রায় ওই পরিমাণ আরও ক্রেট গ্রামের ছোট ও প্রান্তিক চাষিদের কাছে পড়ে আছে, কারণ তাদের হিমঘরে নিয়ে আসার খরচ দেওয়ার ক্ষমতা নেই। আমাদের যদি এগুলো বেচতে হয় তাহলে ক্রেট পিছু ৬০০-৭০০ টাকা পাব। মানে চাষিদের বিশাল ক্ষতি হবে। আমাদের আপেলের মরসুম চলে যাওয়ার অব্দি অপেক্ষা না করে উপায় নেই। ইরানি আপেলের এই বেআইনি আমদানি আমাদের বিরাট মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

একটা সাধারণ বছরে কাশ্মীরের আপেল শিল্প দেশের চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশ পূরণ করত। এতে প্রায় ১৫০০ কোটি টাকার রাজস্ব উৎপাদন হত এবং রাজ্যের মোট ঘরোয়া উৎপাদনে (GSDP) অবদান থাকত প্রায় ১০ শতাংশ। যে বছর সর্বোচ্চ উৎপাদন হত, সে বছর ২০ লক্ষ মেট্রিক টন আপেল রপ্তানি করা হয়েছে। পরিমাণটা কমতে কমতে ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে নেমে এসেছিল ৪.৮ লক্ষ মেট্রিক টনে। সেবার ৩৭০ রদের পরে কাশ্মীরের যোগাযোগব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার ফলে চাষিরা সারা বিশ্বে তাঁদের বরাবরের ক্রেতাদের সাথে যোগাযোগ করে অর্ডারই নিতে পারেননি। আপেল শিল্পের ভ্যালু চেন রাজ্যের প্রায় ৫০ লক্ষ মানুষকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কর্মসংস্থান দেয়, আর এক হিসাব অনুযায়ী রাজ্যের সম্পূর্ণ হর্টিকালচার অর্থনীতি ১০,০০০ কোটি টাকার।

উপরন্তু, ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে সাবেকি ফলনের মরসুমে অসময়ের বৃষ্টিতে বেশ খানিকটা আপেল নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। ফলে বড় চাষি, প্রান্তিক চাষি – সকলেরই ক্ষতি হয়েছিল। জোগানে ফাঁক পড়ে যাওয়ায় ইরানি আপেল আমদানির আদর্শ পরিস্থিতি তৈরি হয়। বশীর বলছেন “গত বছর বাম্পার হারভেস্ট হয়েছিল আর আপেলের দরও কমে এসেছে। ফলে আমদানির কোনো প্রয়োজনই নেই। এই বেআইনি আমদানি বন্ধ না করা হলে কাশ্মীরের এই শক্তিশালী শিল্পটাও রুগ্ন শিল্প হয়ে দাঁড়াবে।”

বাজার ইরানি রেড ডেলিশিয়াস প্রজাতির আপেলে ভরে যাওয়ায় কাশ্মীরি আপেলের চাহিদা অনেক কমে গেছে। বাণিজ্য মন্ত্রকের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে অক্টোবর মাসের মধ্যে প্রায় ৩০,৩৬৯ টন ইরানি আপেল ভারতে আমদানি করা হয়েছে। কিন্তু ব্যবসায়ীদের মতে পরিমাণটা আসলে আরও অনেক বেশি। ওয়াগাহ সীমান্ত হল আফগানিস্তানের মধ্যে দিয়ে আসা আপেলের ভারতের ঢোকানোর জন্য আমদানিকারীদের সবচেয়ে পছন্দের জায়গা। এছাড়া দুবাই আর ইরানের বন্দর থেকেও আসে।

দিল্লির ফ্রেশ ফ্রুট ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অনিল দ্বিবেদী বললেন “২০২০ সালের মার্চ মাসে আজাদপুরের ব্যবসায়ীরা ইরানি আপেল আমদানি করার বিরুদ্ধে চারদিনব্যাপী প্রতিবাদ করেছিলেন। আমরা কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপিও জমা দিয়েছিলাম। কিন্তু আজ অব্দি কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”

উলুখাগড়ার প্রাণ

২০১৯ সালের অগাস্ট মাসে ৩৭০ নং অনুচ্ছেদ রদ করার সমর্থনে সার দেশে সম্প্রচারিত ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন “জম্মু ও কাশ্মীরের রঙিন কেশর হোক, বা সুস্বাদু কফি, মিষ্টি আপেল হোক আর রসালো খোবানি, কিম্বা কাশ্মীরি শাল – সবই সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়া দরকার।” কিন্তু কাশ্মীরের আপেল চাষিদের কাছে দুবছরের বেশি সময় ধরে আপেলের স্বাদ তেতো। সম্প্রতি কাশ্মীর ভ্যালি ফ্রুট গ্রোয়ার্স কাম ডিলার্স ইউনিয়ন এই শিল্পকে রক্ষা করতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ চেয়ে একটা চিঠি লিখেছে, কিন্তু এখনো কোনো জবাব আসেনি। বশীর জানালেন “আমরা ৪ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীকে এই সংকটের কথা জানিয়ে একটা চিঠি লিখেছি। তাঁর উচ্চাকাঙ্ক্ষী মেক ইন ইন্ডিয়া প্রকল্পের কথাও মনে করিয়ে দিয়েছি, কিন্তু তাঁর দপ্তর থেকে কোনো জবাব আসেনি।”

আপেল চাষিদের অবস্থার কথা জানিয়ে এই চিঠিতে লেখা হয়েছে “বহু ফল বিক্রেতা আফগানিস্তান আর দুবাইয়ের মাধ্যমে আসা ইরানি আপেল ভারতে খালাস করেছেন। ফলে জম্মু ও কাশ্মীর এবং হিমাচল প্রদেশের সমগ্র ফল শিল্প বিরাট সংকটে পড়েছে।”

২০১৮ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখন পরমাণু চুক্তি প্রত্যাহার করল, তখন ক্ষমতাসীন মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৫ সালের চুক্তি অমান্য করার অভিযোগে ইরানের উপর ফের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী ইরান সীমিত পরিমাণ তেল রপ্তানি করতে পারে। চীনের পরে ভারতই হল ইরানি অপরিশোধিত তেলের সবচেয়ে বড় আমদানিকারী। পারস্য উপসাগরের এই দেশের সঙ্গে ভাল সম্পর্ক রাখা ভারতের পক্ষে জরুরি, কারণ এতে তৈল সম্পদে ধনী মধ্য এশিয়া ভারতের নাগালে থাকে। ভারত ইরানের চাবাহার বন্দরেও প্রচুর বিনিয়োগ করেছে, কারণ ওই বন্দর ইউরোপিয় ও রুশ বাজারের প্রবেশদ্বার। দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানে অবস্থিত ওমান উপসাগরের এই বন্দর ভারতকে আফগানিস্তানে পৌঁছবার এক বিকল্প পথ দেখায়, আর আফগানিস্তান কৌশলগত কারণে ভারতের কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ। গত বছর অগাস্টে আফগানিস্তান আবার তালিবানদের দখলে চলে যাওয়ায় ভূরাজনৈতিক কারণেও ভারতের ইরানের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখার প্রয়োজন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। অন্য দিকে, ভারত-আফগানিস্তান মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির উদ্দেশ্য ছিল স্থলভাগ দিয়ে ঘেরা দেশটার সাথে সম্পর্ক দৃঢ় করা, যাতে পাকিস্তান চাপে থাকে। এসবের মধ্যে দেশিয় আপেল শিল্প হয়ে দাঁড়িয়েছে উলুখাগড়া। তার প্রাণ থাকল কি গেল তা নিয়ে কারোর চিন্তা নেই।

কাশ্মীরের বহু কৃষকের বিশ্বাস ভারত সরকার ইচ্ছাকৃত এবং পরিকল্পিতভাবে রাজ্যের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করছে, কারণ সেখানকার মানুষ ৩৭০ রদ করার সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি। ফয়াজ বললেন “এই ভাবনা এখানে অনেকের মাথাতেই ঘুরছে। বেশিরভাগ লোকই মনে করছে কেন্দ্রীয় সরকার ইচ্ছে করেই এগুলো হতে দিচ্ছে, যাতে আমাদের অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে যায়।” তবে যুক্তির দিক থেকে এটাকে ষড়যন্ত্রের তত্ত্বের চেয়ে বেশি কিছু বলে মনে হয় না, কারণ হিমাচল প্রদেশ আর উত্তরাখণ্ডের চাষিরাও শস্তা ইরানি আপেলের আমদানিতে একইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

যৌথ প্রতিবাদ

জানুয়ারি মাসে কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ডের আপেল চাষিরা মিলিতভাবে কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমরের কাছে একটা চিঠি দেন। তাতে লেখা হয়েছে “এই চিঠিকে কৃষকদের দিক থেকে এসওএস বার্তা হিসাবে গ্রহণ করুন। আমরা ইরান থেকে আপেল আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করার এবং অন্যান্য আমদানি করা আপেলে শুল্ক বাড়িয়ে, হিসাবের স্বার্থে কমপক্ষে ১ ডলার প্রতি কেজি বিলিং সহ, ১০০% করার দাবি জানাচ্ছি। এতে আমাদের দেশে যেনতেনপ্রকারেণ বিদেশের মাল খালাস করা এড়ানো যাবে।”

দ্য হিন্দু কাগজের এক প্রতিবেদনে হিল স্টেট হর্টিকালচার ফোরামের আহ্বায়ক হরিশ চৌহানের বক্তব্য জানানো হয়েছে। হিমাচল, কাশ্মীর এবং উত্তরাখণ্ড – তিন রাজ্যের আপেল উৎপাদকরাই এই ফোরামের সদস্য। হরিশ বলেছেন “যদি সংরক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করার অসাধ্য হয়ে যায়, তাহলে সমস্ত ফল বাজারে চলে আসবে। ফলে জোগান প্রচুর হয়ে যাবে এবং দাম পড়ে যাবে।” আমরা এমন একটা সময়ে দাঁড়িয়ে আছি যখন মুসলমান ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ঘৃণাজনিত অপরাধ বাড়ছে। সেই সময়ে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার কাশ্মীরের হিন্দু আর মুসলমানরা নিজেদের অর্থনৈতিক স্বার্থরক্ষার চেষ্টায় একজোট হলেন। ২০১৬ সালে মীরাট আর জলন্ধরের ক্রিকেট ব্যাট নির্মাতারা কাশ্মীর উইলো ক্লেফটের রপ্তানিতে যে নিষেধাজ্ঞা আছে তা তুলে দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে তদবির করেছিলেন। ১৯৯৯ সালে কাশ্মীর উইলো রাজ্যের বাইরে রপ্তানি করার উপর আংশিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। সেই নিষেধাজ্ঞা পরে পরিমার্জিত করে জে অ্যান্ড কে উইলো (প্রোহিবিশন অন এক্সপোর্ট অ্যান্ড মুভমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০০২ প্রণয়ন করা হয়। সেই আইন অনুযায়ী এই মূল্যবান কাঠের সীমান্ত পেরিয়ে ব্যবসা নিষিদ্ধ। এটা করা হয়েছিল জম্মু ও কাশ্মীরের ছোট ক্রিকেট ব্যাট নির্মাতাদের স্বার্থরক্ষার জন্য।

২০১৭ সালের গোড়ায় জম্মুর বাসোহলি কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক লাল সিং, যিনি রাজ্যের পিডিপি-বিজেপি সরকারের বন, পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্র দপ্তরের মন্ত্রীও ছিলেন, তিনি এই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার চেষ্টা করেন। অনেকের মতে এই চেষ্টার পিছনে রাজ্যের বাইরের ব্যাট নির্মাতাদের হাত ছিল। সেইসময় উপত্যকা এবং জম্মু, দুটো জায়গারই উইলো উৎপাদক এবং ব্যাট নির্মাতাদের হয়ে বনমন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নেতৃত্ব দেন জম্মু ব্যাট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বংশীলাল গুপ্ত। হিন্দু এবং মুসলমান – দুই সম্প্রদায়ের ব্যবসায়ীরাই রাজ্য সরকারকে এমন চাপে ফেলেন যে তাকে পিছিয়ে যেতে হয়। কারণ সরকার বুঝতে পেরেছিল উইলো রপ্তানির উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে দিলে বিজেপি আর পিডিপি – দুই দলেরই রাজনৈতিক ক্ষতি হয়ে যাবে। জম্মু ও কাশ্মীরের আপেল চাষিরা অন্য রাজ্যের চাষিদের সঙ্গে মিলে ইরানি আপেলের বেআইনি খালাস রুখতে সেরকমই একটা জোট তৈরি করার কথা ভাবছেন।

এই লেখা তৎসৎ ক্রনিকল ওয়েবসাইটে ইংরেজিতে প্রকাশিত। লেখকের অনুমতিক্রমে ভাষান্তরিত রূপ এখানে প্রকাশিত হল। মতামত ব্যক্তিগত, তথ্য লেখকের

আরো পড়ুন

হায়দরপোরা এনকাউন্টার: পিতৃহারা মেয়ের মুখে তাচ্ছিল্যের হাসি ছেটানো রাষ্ট্র, আর কত লজ্জা দেবে?

Leave a Reply