মহম্মদ সেলিম

তিনবিঘা এলাকায় এসেছি। যে এলাকাগুলি সবচেয়ে বড় ভারতের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল, সেগুলির অন্যতম এই এলাকা। স্বাধীনতার ৭৫ বছর উদযাপন করলাম এই ছিটমহল এলাকার মানুষের সঙ্গে।

স্বাধীনতার যে স্বপ্ন ছিল, তা পূরণ হয়নি। নির্বাচনের আগে যা স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল, তা-ও পূরণ করা হয়নি। গত নির্বাচনের আগেই বলা হয়েছিল, ২০২২ সালে স্বাধীনতার ৭৫ বছরে সবার জন্য ঘর হয়ে যাবে। হয়নি। এখন বলা হচ্ছে সব ঘরে তিরঙ্গা পতাকা। এভাবে জাতীয়তাবাদী উন্মাদনা সৃষ্টির চেষ্টা হচ্ছে। পতাকা তো লোকে ২০ টাকা দিয়ে কিনতেই পারে। যদি তার চাকরি হয়, বাসস্থান হয়, তবেই তো সে পতাকা তুলতে পারবে। যার ঘরই নেই, সে কোথায় পতাকা তুলবে? স্বাধীনতার আগে এবং পরে যে সব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার অনেকটাই অপূর্ণ। আগামী ২৫ বছর আমাদের হাতে সময় রয়েছে, স্বাধীনতার শতবর্ষের আগে এই সব অপূর্ণ স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে হবে।

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

আমাদের সংবিধানের প্রথম বাক্যটি হল, “উই দ্য পিপল”। আমরা, ভারতের জনগণ। অর্থাৎ জনগণকে সবার উপরে রাখা হয়েছিল। যখন স্বৈরশাসন কায়েম হয়, ফ্যাসিবাদের উত্থান হয়, তখন জনগণের মাথার উপর কেউ কেউ অবতারের মত চড়ে বসে। দেশপ্রেমের নামে স্বৈরশাসকের ভক্ত তৈরি করা হয়। এসব হল সাংবিধানিক শাসন, সংবিধানের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।

স্বাধীনতার ৭৫ বছরে একটা অংশের মানুষকে সিএএ, এনআরসি, এনপিআর-এর মাধ্যমে ভয় দেখানো হচ্ছে। আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের শিক্ষা ছিল, আমরা সবাই সমান। সংবিধান বলছে, ভারত একটি প্রজাতন্ত্র, সাধারণতন্ত্র। স্বাধীনতার ৭৫ বছরে সবচেয়ে বড় সংকট হল, জনগণকে ভাগ করার চেষ্টা চলছে। কাউকে এক নম্বর, কাউকে দু নম্বর নাগরিক তৈরির চেষ্টা চলছে।

অনুলিখন: অর্ক

আরো পড়ুন:

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.