মণিদীপা দত্ত

স্বাধীনতার ৭৫ বছর এসেছে ঠিকই, কিন্তু স্বাধীনতা শব্দের যে অর্থ, আমরা হয়ত এখনও তাকে পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারিনি। শিক্ষা, রাজনীতি, সমাজ  — কোনো ক্ষেত্রেই নয়। এটা ঠিক যে আমরা মেয়েরা এখন পড়াশোনা করার সুযোগ আগের চেয়ে বেশি পাচ্ছি। কিন্তু তারপর? চাকরি করার সম্ভাবনা যতটা জোরালো, তার চেয়ে অনেক বেশি জোরালো বিয়ে করার সম্ভাবনা। রাষ্ট্র পড়াশোনা শেখাচ্ছে, কিন্তু তারপর নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জায়গা করে দিচ্ছে না। প্রায় প্রতিটি নেতা মন্ত্রী দুর্নীতিগ্রস্ত। নিজের আখেরটুকুই বোঝেন তাঁরা। চাকরির পরীক্ষায় ভয়াবহ দুর্নীতি। টাকা দিয়ে চাকরি কেনার ব্যবস্থা যে দেশে রমরমিয়ে চলে, সেখানে স্বাধীনতাটা ঠিক কোথায়? আমার কাছে এই প্রশ্নটা ভীষণ জরুরি। চাকরি পাওয়ার জন্য আমায় আন্দোলন করতে হবে, আন্দোলন করলে পুলিশ ধরে নিয়ে যাবে, জেলে ঢোকাবে, এই যদি হয় পরিস্থিতি, তাহলে স্বাধীনতার মর্ম কী দাঁড়াচ্ছে?

ব্রিটিশ শাসকের বিরুদ্ধে যখন প্রতিবাদ হত, তখন প্রতিবাদীদের মেরে জেলে ঢোকানো হত। আর এখন আমি নিজের যোগ্যতার নিরীখে একটা চাকরি চাইছি, পাচ্ছি না, বিপুল দুর্নীতি হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলে আমায় অনশন করতে হচ্ছে, ধর্না দিতে হচ্ছে, মিছিল করতে হচ্ছে, তারপর পুলিশের মার খেয়ে জেলে থাকতে হচ্ছে। ছ-সাত বছর ধরে নিয়োগ প্রক্রিয়া ঝুলে থাকে।

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

পঁচাত্তর বছরে তাহলে ঠিক কী পেলাম? আমি ব্রিটিশ আমলে জন্মাইনি। কিন্তু সেই আমলেও কর্মসংস্থানের যে সমস্যা ছিল, তার কি খুব বদল হয়েছে? যে যত বেশি টাকা দিতে পারবে, চাটুকারিতা করতে পারবে, সুযোগ তারাই পাবে। এই যদি স্বাধীন ভারতের চেহারা হয়, তাহলে কি সত্যিই স্বাধীন শব্দটা রাখতে পারি দেশের নামের আগে? স্বাধীনতা শব্দটাই খুব খেলো হয়ে যায় না তখন? মাঝে মাঝে মনে হয় আরেকবার স্বাধীনতার জন্য লড়াই করা উচিত।

অনুলিখন : প্রতীক

আরো পড়ুন:

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.