ভীমরাও রামজি আম্বেদকরকে নিয়ে গণপরিসরে যে আখ্যান প্রচলিত – যে প্রতার্কিক নির্মাণের নাম দেওয়া হয়েছে ভীমরাও আম্বেদকর, তার মধ্যে, দস্তুর মেনেই, জাতিভেদ বিরোধী সংবিধানপ্রণেতার মূর্তি যতটা প্রকট, বৃহত্তর অর্থে, রাজনৈতিক চিন্তকের পদচিহ্ন ততটা নয়।

আজকের দলিত সংস্কৃতিতে আম্বেদকরের অবদানকে অস্বীকার করা অথবা প্রাপ্যের বেশি বা কম মর্যাদা দেওয়ার কথা হচ্ছে না। দেশের সংবিধানের স্থপতি হিসেবে তাঁকে স্মরণ করাও সঙ্গত অবশ্যই। কিন্তু সংবিধান তো কোনো ধর্মগ্রন্থ নয়, আম্বেদকরও প্রফেট নন। দক্ষিণপন্থী আগ্রাসনের বিপ্রতীপে কোনো বিকল্প আখ্যান নির্মাণে অক্ষম দেশবাসী ওই সংবিধানকে আঁকড়ে ধরে সাময়িক স্বস্তি পেলেও তাকে বাইবেল বা কোরানের মত অকাট্য ও ধ্রুব ধরে নিলে যে বিষবৃক্ষটি রোপণ করা হবে তার উৎপাটন সহজ নয়। দলিত রাজনীতি ও সংস্কৃতির পরিসরটি নির্দিষ্টরকম সংজ্ঞাবদ্ধ নয় বটে, কিন্তু ভারতের দলীয় রাজনীতির আঙিনায় তথাকথিত ভোটব্যাংক-নির্ভরতা যে বর্গীয় রাজনীতির জন্ম দিয়ে আসছে প্রাক-স্বাধীনতা যুগ থেকেই, দলিত রাজনীতিই বা তার মোহশৃঙ্খল ভাঙতে পারল কই? সংরক্ষণের উপযোগিতা নিয়ে অত্যন্ত তথ্য ও তত্ত্বনিষ্ঠ আলোচনা সম্ভব, কিন্তু আম্বেদকরের রাজনৈতিক চিন্তাকে বুঝতে হলে সংরক্ষণভিত্তিক পাঠে মগ্ন হতে হবে, এ প্রস্তাব পেশ হওয়ার আগেই খারিজ হয়ে যেতে বাধ্য।

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

আম্বেদকরের জন্ম ১৮৯১ সালে। ততদিনে এ দেশ ভক্তিবাদ ও সুফিবাদে অভ্যস্ত। তাঁর পরিণত বয়সে নয় শুধু, নিতান্ত শৈশবেও “সব মানুষ সমান” গোছের আপ্তবাক্য শুনে অবাক হওয়ার মত মানুষ বোধহয় খুব সুলভ ছিল না। হ্যাঁ, বিপুল সংখ্যক মানুষ সে মতের বিরোধী ছিলেন নিশ্চয়ই, সে আজও বিরল নয়। যুগ পাল্টেছে, হিন্দু ঐক্যের ভিত্তিতে জাতির পুনর্নির্মাণের তাগিদের সঙ্গে ভোটের পাটীগণিত মিশে জটিল পরিস্থিতি, যতটা সম্ভব লুকিয়ে থাকতে হয় এই যা। তাহলে এই একুশ শতকের দ্বিতীয় দশকের গোড়ায় আম্বেদকরকে নিয়ে লিখতে বসার কারণ কী? এই মুহূর্তে আম্বেদকরের চিন্তা থেকে সামাজিক ন্যায়ের প্রচলিত প্রতর্কের বাইরে এমন কী প্রাপ্তির আশা আছে যা সমকালের জনজীবনে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠতে পারে?

হানা অ্যারেন্ট তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ The Human Condition-এ সমাজজীবনের অন্তর্নিহিত যে বিরোধাভাসের দিকে ইঙ্গিত করেছিলেন তার সঙ্গে গিবসনীয় ঘরানার মনস্তত্ত্বের সম্পর্ক গভীর ও প্রত্যক্ষ। মানুষের ক্রিয়ার তিনটি ধরণের দিকে অ্যারেন্ট পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন বইটির একেবারে গোড়ার দিকেই – শ্রম (labor), সৃজন (work) ও কৃতি (action)। তারা একে অপরের সঙ্গে কতটা মিথোজীবিতায় লিপ্ত সে ভিন্ন প্রসঙ্গ। অ্যারেন্ট শ্রম বলতে বোঝাচ্ছেন সেই সমস্ত কাজকে যা মানুষ নেহাত জৈব তাগিদে, টিকে থাকার প্রয়োজনে করে থাকে। শরীর ধারণের জন্য খেতে যেমন হয়, তেমনি খাদ্যের সংস্থানও করতে হয় বই কি। এ কথাও খুব নতুন ঠেকে না যে মানুষ সৃজনশীল – যে ঘটনা ও বস্তুময় পরিবেশে মানুষের আবির্ভাব, তার নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠার তাগিদ আমাদের মজ্জাগত। আমরা ঘটনা ঘটাই ও বস্তু নির্মাণ করি। এককালে প্রাকৃতিক ও ঐতিহাসিকের মধ্যে যে ভাগাভাগি বেশ স্পষ্ট ছিল, প্রকৃতির ওপর মানবিক দখলদারির সুবাদে সেই ভেদরেখাটুকু বিলীয়মান প্রায়। তবু সাদা চোখে দেখলে সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস বা উল্কাপতনকে প্রাকৃতিক ঘটনা বলে মেনে নিতে অসুবিধে নেই, কিন্তু রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণ সেই খোপে আঁটে না। ঝিঁঝিপোকার শব্দ যে অর্থে প্রাকৃতিক, ভ্যান গঘের ‘স্টারি নাইট’ সে অর্থে প্রাকৃতিক নয়। কিন্তু রাজনীতির দার্শনিকের সন্দর্ভে সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে কৃতি – মানুষে মানুষে যে বোঝাপড়া সমষ্টিকে সম্ভব করে তোলে। কৃতিই স্বাধীনতা ও যৌথতার উৎস। মানুষ যে প্রাকৃতিক সম্ভাবনার অধীন নয়, সে যে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে সক্ষম, সে কথা তো বলাই হল। কিন্তু নতুন সম্ভাবনার সঙ্গে, অপ্রত্যাশিতের জন্মের সঙ্গে স্বাধীনতার প্রসঙ্গটি জড়িয়ে নিচ্ছেন অ্যারেন্ট। কৃতির মধ্যে দিয়েই এই স্বাধীন সত্তার প্রকাশ ঘটে। স্বাধীনতা মূলত অপ্রত্যাশিতের জন্ম দেওয়ার স্বাধীনতা। যৌথতার প্রসঙ্গটি স্বাধীনতার হাত ধরেই মঞ্চে অবতীর্ণ হয়। দেনত্রেভেস মনে করিয়ে দিচ্ছেন, “without the presence of a community of like-minded actors who can see and judge the performance, action will cease to be a meaningful activity.” গিবসনের মনস্তত্ত্বের সঙ্গে জরুরি মোলাকাত সেরে আমরা বিরোধাভাসের প্রসঙ্গে ফিরব। গিবসন বলছেন চেতন প্রাণীকুলের প্রতিবেশ তাদের জন্য নানাবিধ আমন্ত্রণ বা affordance সাজিয়ে রাখে – নানান ক্রিয়া সম্ভাবনা। মানুষ যখন সৃষ্টি করে, তখন আদতে নতুন ক্রিয়া সম্ভাবনাই সৃষ্টি হয়। এই ক্রিয়া সম্ভাবনা যুগপৎ ক্রিয়াকে বাস্তবায়িত করে ও নিয়ন্ত্রণ করে। হাতুড়ি দিয়ে ইঁট ভাঙতে পারি, আলুর খোসা ছাড়াতে পারি না। যৌথতার মধ্যে অ্যারেন্টও একধরণের বিরোধাভাস লক্ষ করছেন। একদিকে যেমন যৌথতা স্বাধীনতা ও কৃতিকে সম্ভব করে তোলে, তেমনই অন্যদিকে সম্ভাবনার পথ রোধ করে দাঁড়াতেও তার জুড়ি নেই। সমষ্টির কৃতি থেকে জাত “the social” মানুষের কারক-ভূমিকাকে সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করতে সক্ষম। সে আচারে পরিণত হয়ে মানুষকে ভুলিয়ে দিতে পারে এ মানুষেরই কৃতি, তারই আয়ত্তাধীন ছিল একদিন। আজ ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইনের দৈত্য স্বয়ংক্রিয় হয়েছে। মানুষের স্বায়ত্বকে সম্পূর্ণ গ্রাস করে নিতে পারে “the polite society of the salon”।

গান্ধী, রানাডে ও জিন্নাকে নিয়ে দেওয়া বক্তৃতায় ইতিহাস নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আম্বেদকর উল্লেখ করছেন পূর্বসূরিদের ইতিহাসচিন্তার একদেশদর্শিতার কথা। অগস্টিনীয় ভাষ্যে ইতিহাস যদি এক দৈব পরিকল্পনার বাস্তবায়ন হয়, বাকলের ভাষ্যে তার নিয়ন্ত্রক ভূগোল ও পদার্থবিজ্ঞান। আবার কার্ল মার্কস ইতিহাসের চালিকাশক্তি হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিকে। আম্বেদকর লক্ষ করছেন এই স্বয়ংক্রিয় ইতিহাসের ধারণা মানুষের কারক-ভূমিকাকে সম্পূর্ণ এড়িয়ে যাচ্ছে। কে একমত বা দ্বিমত হবেন সে তর্কে ঢুকব না। অ্যারেন্টের মতোই এই কারক-ভূমিকা আম্বেদকরের ইতিহাস চিন্তার কেন্দ্রীয় চরিত্র। লক্ষ্যণীয়, বাকল্ বা মার্কসকে এককথায় খারিজ করছেন না ভীমরাও, যেমনটা করছেন অগস্টিনকে। দীক্ষিত অর্থনীতিজ্ঞ অর্থনীতির দানবীয় ক্ষমতা সম্পর্কে অবগত, সন্দেহ নেই, কিন্তু “while there is truth in what they say, their views do not represent the whole truth”। ইতিহাসের সবচেয়ে জরুরি উপাদানটিকে এড়িয়ে যাচ্ছেন দুজনেই। অর্থনীতি, ভূগোল বা পদার্থ-প্রকৃতি সময়কে নিয়ন্ত্রণ করে বই কি, কিন্তু কোনো কারক ব্যতীত কৃতি সম্ভবে না। “That impersonal forces are a determining factor cannot be denied. But that the effect of the impersonal forces depends on man must also be admitted”।

Revolution and Counter-revolution শীর্ষক অসম্পূর্ণ পাণ্ডুলিপিতে ব্রাহ্মণ্যবাদের বিরুদ্ধে আম্বেদকরের সমালোচনার কেন্দ্রেও এই কারক-ভূমিকা। আম্বেদকরের অভিযোগ দেব, অসুর, যক্ষ বা নাগ জনগোষ্ঠীর ব্রাহ্মণ্যবাদী রূপায়ণে যে আরোপিত অতিপ্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য, তার আড়ালে কাজ করে এক রাজনৈতিক প্রকল্প। ইতিহাস থেকে জনজাতীয় ভারতবর্ষকে মুছে দেওয়ার প্রকল্প। দেশ ও কালের নির্মাণে এই অসংখ্য জনজাতির যে বাস্তবিক ভূমিকা – যে কারক-ভূমিকা তাকে অস্বীকার করার হাতিয়ার এই আরোপিত বৈশিষ্ট্যগুলি। এ শুধু দলিতের আত্মমর্যাদায় আঘাত নয়, এমনকি উনিশ শতকের ব্রাহ্মণ সন্তানের ইতিহাসচেতনাকে নিয়ন্ত্রণ করার প্রকল্পও বটে। আগামীর উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ কায়েম করার ব্রাহ্মণ্যবাদী রাজনীতি। জাতপাতের জন্ম নিয়ে আম্বেদকরের ধারণা বহু আলোচিত এবং সমালোচিত। এক্সোগ্যামির ওপর চাপিয়ে দেওয়া এন্ডোগ্যামি জাতের সংজ্ঞা হিসেবে নিখুঁত নয় হয়ত, কিন্তু Castes in India-তে তাঁর ভাবনার মূল সূত্রটি নির্দেশ করছে জাতিব্যবস্থার ভেতরে উদ্বৃত্ত মহিলা (surplus woman) এবং উদ্বৃত্ত পুরুষের (surplus man) সমস্যা সমাধান বিষয়ক মন্তব্যে। স্বামীর মৃত্যুর পরে স্ত্রীকে সহমরণে যেতে বাধ্য করা হোক বা তার ওপর বৈধব্য আরোপ করা হোক (“a milder form of burning”) আদতে আঘাত করা হচ্ছে যৌন কারক হিসেবে তার ভূমিকাকে, তার কৃতি সম্ভাবনাকে। পুরুষের ক্ষেত্রে কাজটা যে ততটা সহজ নয়, সে কথা গোড়াতেই স্বীকার করে নিচ্ছেন এবং ঠিক সেই কারণেই বিপত্নীকের জন্য ভিন্ন বন্দোবস্ত। তাকে বিয়ে দেওয়া হচ্ছে স্বজাতিভুক্ত কোনো নাবালিকার সঙ্গে – উদ্দেশ্য যৌন কৃতির অবদমন। হয়ত পুরুষের ক্ষেত্রে জোর ততটা খাটে না বলেই বিবাহিতার পদবি বা গোত্র বদলের রীতি, কিন্তু সে যাই হোক, আম্বেদকরের বিশ্লেষণ খানিক অতিসরলীকরণে দুষ্ট মনে হলেও তর্কের মূল সুরটি ধরা শক্ত নয়। এই কারক-ভূমিকা ও তার অপ্রত্যাশিতকে সৃজন করবার সামর্থ্যের মধ্যে স্বাধীনতার সম্ভাবনাকে দেখতে পাচ্ছেন বলেই আম্বেদকরের রাজনীতিকে তাঁর সামাজিক অভীষ্ট থেকে আলাদা করে পড়া যায় না। নেতা এবং তথাকথিত নায়ক বা হিরোর মধ্যে স্পষ্ট তফাত করছেন আম্বেদকর।

রানাডেকে নেতৃত্বের আসনে দেখতে তাঁর অস্বস্তি হয় না কারণ “great man”-এর মূল কাজ নায়ক হয়ে ওঠা নয়, “the polite society of the salon”-এর রীতি মেনে জনপ্রিয় বা প্রভাবশালী হয়ে ওঠা নয়। ইতিহাসের নতুন দিশা সন্ধান করা, নতুন কৃতি সম্ভাবনার আবিষ্কার। নায়ক সামাজিক দৈত্যের শিকার, তারই নির্মাণ। নেতা সেই দৈত্যের সামনে চ্যালেঞ্জ। প্রকৃত রাজনীতি এই সমষ্টির ঘোর কাটানোর রাজনীতি এবং তা প্রাকৃত রাজনীতিও বটে, কারণ সমষ্টির প্রকল্পে যে দলের ভাগ্যে শিকে ছেঁড়ে তাদের সুযোগ সুবিধে বিস্তর। সত্য ও নৈতিকতা দুর্বলের আয়ুধ। সবলের ওসব না হলেও চলে, বরং ভাল চলে। Annihillation of Caste-এ যে দ্বিবিধ বিরোধিতার কথা উল্লেখ করছেন ভীমরাও, তার প্রথমেই আছে “political reformers”, অথচ রাজনীতিতে আম্বেদকরের অনীহা ছিল মনে করার কারণ নেই।

ব্রিটিশ ভারতে স্বাধীনতা আন্দোলনে শহীদ না হওয়ার গঞ্জনা এড়িয়ে যাওয়াই যেত। তাঁর কিছুদিন কারাবাস হলে ক্ষতি তো তেমন ছিলই না, উপরন্তু কংগ্রেসের গালমন্দ হজম করতে হত না। বি আর আম্বেদকরকে জেলে ভরে নিদারুণ অত্যাচার করার প্রশ্নই ওঠে না। বহাল তবিয়তে রাজনৈতিক বন্দী হয়ে থাকতেন। কিন্তু সমকালের স্বদেশী রাজনীতিতে আম্বেদকর কোনো কৃতি সম্ভাবনা খুঁজে পাচ্ছিলেন না আর। সামাজিক স্বীকৃতির মোহে যে বহু মানুষ হঠাৎ স্বদেশি হয়ে উঠছে এ কথা বক্তৃতায় বারবার বলছেন। এই রাজা বদলের রাজনীতিতে একধরণের “polite society of the salon” গড়ে উঠছে যার বিরুদ্ধে আম্বেদকরের জেহাদ। এবং তাঁর আশঙ্কা এই ‘social’ একদিন কারকের নিয়ন্ত্রণকে অস্বীকার করে তাকেই গ্রাস করে নেবে। পল ক্লির চিত্রশিল্পের আলোচনায় মার্লো পন্তি মনে করিয়ে দিয়েছিলেন শিল্পীর কাজ রুচির দাসত্ব নয়, সত্যের আবিষ্কার। আজ যখন প্রকৃতি ও অতিপ্রকৃতির ভেদরেখা প্রায় বিলীয়মান তখন নিজেদের কারক-ভূমিকার সন্ধানে আম্বেদকরের পাঠ প্রাসঙ্গিক হলেও হতে পারে। সুধী ভেবে দেখতে পারেন।

মতামত ব্যক্তিগত

আরো পড়ুন

পরাজিত অধিকারের সনদ হাতে আজও হাঁটছেন আম্বেদকর

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.