শুনচি সগগে বড় গোল হচ্চে। হুতোমকে এক যমদূত খবর দিলে দেবরাজের সভা হতে যমরাজকে নোটীশ দেয়া হয়েচে, সে পিছিয়ে পড়েচে, মর্তের লোকের সাথে তাল রাখতে পারচে না। এ যাত্রা স্যালারি কাট করে রাখা হল, আপস্কিলিং কত্তে না পাল্লে বিদেয় করে দেয়া হবে। চিত্রগুপ্ত অ্যাদ্দিনে প্রমোশন সম্ভাবনা দেকে বিস্তর লাফাচ্চে।

এদিকে যম খেপে গিয়ে নেত্য আরম্ভ করেচে। সে ইন্দ্রের সভায় হিসেব দিয়েচে, এক বচ্ছরে নরকের জিডিপি দু গুণ তিন গুণ হয়েচে। যাকে বলে হিঁদু রেট অফ গ্রোথ। অ্যাতো মড়া এসেচে যে নরকে জায়গা দেয়া যাচ্চে না, সগগে রিফিউজি ক্যাম্প খুলতে হয়েচে। সগগের বাবুরো এরি মদ্যে পিতামহ ব্রহ্মার কাচে হত্যে দিয়েচেন, দু চাট্টি রিফিউজি নাকি কাঁটাতার গলে নন্দনকাননে ঢুকে পড়েচে। সেগুলিকে র‍্যাশনাল রেজিস্টার অব হেভেনিজেনস করে নরকে ফেরাতে হবে। তা মড়া যকন উপচে পড়চে, তকন যমের স্যালারি কাট কোন আইনে?

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

আপনাদের হুতোমও শুনে ভাবলেন যমের কতাটি যথার্থ। তার কাজে মোটে ফাঁকি নেই। চাদ্দিকে তাকালেই দ্যাকা যাচ্চে যমদূতেরা উদয়াস্ত খাটচে সেই কবে থেকে। যম হলো তাদের প্রভু। তারও কি দু চোকের পাতা অ্যাক করবার জো আচে? তবে সে বেচারার চাকরি নিয়ে টানাটানি করা কেনো?

তা যমদূত বল্লে দেবতাদের খেপে যাবার হেতুটি ভিন্ন। তেনাদের কাচে খবর গ্যাচে মানুষের গবর্নমেন্ট খাসা বুদ্ধি বার করেচে ঠ্যাঁটা লোকগুলি কবে কী ষড় কচ্ছে সেদিকে নজর দেবার। সেকালের মতন রিভল্ট টিভল্ট হবার আর জো নেই। কী খাচ্চেন, কোতায় যাচ্চেন, কার সনে গলাগলি কচ্ছেন, কার সংসারে আগুন লাগাবার বেওস্তা কচ্ছেন, কোন বাবুর ব্যঙ্গচিত্র আঁকচেন। সকলি সরকার বাহাদুর তকুনি দেকে ফেলচেন, কেবল হাতে মোবাইলটি নেবার অপেক্ষা। দেবতারা প্রমাদ গুনে অগ্নিশর্মা হয়েচেন। মোবাইলে পক্ষীরাজ সেঁধিয়ে গিয়ে গবর্নমেন্টগুলি যে নিজেরাই দেবতা হয়ে বসলে! এম্নি চল্লে ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বরের স্থলে সকলে প্রধান সেবক আর গাঁটকাটাবাবুর পূজা করবে। তেনারা যকন জাগা হতে শোয়া অবধি সবই দেকচেন তকন ‘সবই তো জানো, প্রভো’ বলে দেবতাদের পায়ে কেঁদে পত্তে আর কার দায় পড়েচে? যমরাজের এমপ্লয়িগুলি অ্যাতো লোকের হেঁশেল পয্যন্ত ঢুকেচে তবু এই খবরটি পায়নি দেকেই দেবতারা সিদ্ধান্ত করেচেন ওটিকে দিয়ে আর চলবে না। হুতোমের স্যাঙাত যমদূতটি বল্লে, শমনও সোজা লোক নয়। সে ওজর দেকিয়েচিল, লোকের ঘরে ঢুকে হবেটা কী? যারা মোবাইলে পক্ষীরাজ গুঁজেচে তাদের আপিসে বা ঘরে তো মাছি গলতে পায় না। সেকানে কী হচ্চে জানি কী উপায়?

কতা শুনে অনন্তশয্যাশায়ী বিষ্ণু অবধি মহেশ্বরের মতন রাগ করেচেন। প্রবেশ কত্তে না দিলে যদি জানতেই না পারবে, তো দিব্যদৃষ্টি কি যমরাজকে ওয়েব সিরিজ দেকতে দেয়া হয়েচে? পার পাওয়া অসাধ্য দেকে যম বল্লে, মোবাইলের পক্ষীরাজ ঘোড়াটি তেমন হাতি ঘোড়া কী আর দ্যাকাতে পারচে? এদানি হাতে মোবাইল থাকলে হাগার ছবি বাদে আর সবই তো বাবু বিবি অমনই সকলকে দ্যাকান। তা সরকার বাহাদুর ট্যাঁকের টাকা খরচ করে টিকিট কেটে দেকবেন না, এ বা কি কতা? ও নিয়ে অত ভাবনা করা উচিত হয় না। শুনে নারদ যমরাজকে নাহক হ্যাটা কল্লেন। উচিত হয় না কী রে আঁটকুড়ির ব্যাটা? এতে ভাবনা করবে না তো কীসে ভাবনা করবে? সর্বনাশ সমাগত দেকে দেবতারা কি চোক বন্দ করে থাকবেন? যম বলেচিল চোক বন্দ করে থাকা মর্তে ট্রেন্ডিং। কদিন আগে যেকানে নদীর ধারে মড়া পোঁতা হচ্চিল, সেকানে গিয়ে প্রধান সেবক বল্লেন তারা করোনা সামলাতে দারুণ লড়েচে। দেশসুদ্ধ লোকে গালে হাত দিয়ে ভাবলে, বাবু কি চোকে দ্যাকেন না? এমনধারা কেমন করে বল্লেন? গুহ্য কতাটি হল তিনি চোক বন্দ করেই বলেচিলেন। একচক্ষু বাবার থেকে একখানা আসন শিকেচেন। সেটি কত্তে কত্তে স্পীচ দেয়া চলে, চোক দেকলে ঠাওর হয় খোলাই আচে। তবে সে দ্যাকার দোষ। কেবল সেটুকুন নয়, সরকার বাহাদুর আবার বলেচেন এদানি অক্সিজেনের অভাবে কেউ হাঁপিয়ে মরেননি। চোক বন্দ না রাখলে এ কতাও বলা শক্ত হয়। কিন্তু বাহাদুর বাবুরা বুক চিতিয়ে বলচেন। তা দেবতারা চোক বন্দ রাখলেই বা কোন মহাভারত অশুদ্ধ হবে? শুনে মহেশ্বর বেজায় চটে মহাপ্রলয় আরম্ভের উপক্রম কচ্ছেন দেকে যমরাজ মানে মানে সরে পড়েচে।

এ কাহিনী শুনিয়ে যমদূত হুতোমকে বল্লে, আপনার তো আবগারি ইনস্পেক্টর হতে মাতাল অবধি, রাঁড় হতে বামুনের বিধবা অবধি, জ্যাঠা ছেলে হতে ধেড়ে খোকা অবধি সকলি স্যাঙাত। তা জেনে দিন না এই মোবাইলের পক্ষীরাজটি কেমন করে প্রধান সেবকবাবুদের সিঁধ কেটে নরকে নিয়ে ফেলা যায়? বল্লেম, খবরদার। আমাকে বলেচিস, আর কোতাও য্যানো ও কতা বলতে যাসনি। মনে রাখবি, ভূতেদেরও কান আচে। ভূতেদের মদ্যে অ্যান্টিন্যাশনাল অধিক হলেও ভক্ত সমাগম নেহাত কম নয়। একটি ভক্তেরও কানে গেলে হোয়াটস্যাপে লোক ডেকে এনে এম্নি লিঞ্চ করবে যে তোকে যমদূতের চাকরি খুইয়ে ভোর না হতে মনুষ্য জন্ম নিতে হবে। যতক্ষণ রবিবারে মনের কতায় প্রধান সেবকবাবু না বলচেন পক্ষীরাজটি তেনারই পোষ্য, ধত্তে হবে তিনি ফকির লোক, সাতে পাঁচে থাকেন না। এবং বল্লে ধত্তে হবে তিনি সকলের দাবিগুলি জেনে নিয়ে পূরণ কত্তে চান বলেই মোবাইলে পক্ষীরাজ গুঁজেচেন। এটি জুমলা নয়।

যমদূতটি বেজায় ত্যাঁদোড়। বল্লে, সে কতা তো একুনো বাবুরো টুইটারে, ফেসবুকে বলচেন। কে আবার বলেচে ফ্রিডম ফাইটার সুভাষ বোসের ফোনে সেকালে ইন্দিরা গান্ধী আড়ি পেতেছিলেন। একন অ্যান্টিন্যাশনালদের ফোনে সরকার বাহাদুর আড়ি পাতলে দোষ হবে কেনো? নরকে বসে সুভাষবাবু সে কতা শুনে বল্লেন, ইন্দিরার আমলে রাকেশ শর্মা চাঁদে পা রেখেচিল নরক গুলজার পত্রিকায় পড়েছিলেম। মর্তে বসে নরকের ফোন ট্যাপ করার মেশিন আবিষ্কার হয়েচিল, এটি নূতন শুনচি। সত্য হলে জহরলালের মেয়েটিকে করিতকর্মা বলতেই হচ্চে।

যমদূতটিকে আর বল্লেম না, সুভাষ ব্যাকডেটেড হয়ে পড়েচে তাই অমন রসিকতা কত্তে পাল্লে। ফেক নিউজের রগড় তো জানে না। যেদিন ডিপ ফেকে শ্রীমুখে সাভারকরের স্পীচ বসিয়ে ছড়ানো হবে, সেদিন টেরটি পাবে। এ হল বৈদিক টেকনোলজি। এর গুণে সুভাষে, গুমনামিতে ভেদ করা সম্ভবে না।

ফরাসী দেশে পক্ষীরাজ নিয়ে ইনভেস্টিগেশন হচ্চে কিন্তু এ দেশের বাবু বিবি নিশ্চিন্দি। কলকেতার গলিতে বোঁটকা গন্ধওলা এক ন্যাংটা পাগলের গান শুনলেম

জামাই পরো, জোব্বা পরো

পরো সুট আর কোট,

রাজার চোখে ল্যাংটো তুমি

রাজার আছে নোট।

আমাদের ল্যাংটো দেখে যাও, রাজা আয়না কিনে নাও

সকলেরে ল্যাংটো দেখে যাও, রাজা আয়না কিনে নাও।।

Leave a Reply